শুধু ভেবে দেখুন আপনি খুব সেজেগুজে হলুদে যাচ্ছেন একদম শাড়ি, ম্যাচিং চুড়ি, ক্লাচ, স্যান্ডেল, পেন্সিল হিল কিন্তু শীতে একদম মর মর অবস্থা! তখন কেমন লাগবে? এই প্রচন্ড শীতে, কোন রকম গরম কাপড় ছাড়া আমরা তিন বান্ধাবি তাসনিমের বাসার ছাদে চলে গেলাম হলুদ দিতে আর শীতে কাঁপতে কাঁপতে ahhsomely dead। ব্যাপারটা যেমন হাস্যকর, ততটাই দুঃখের।
জানুয়ারী মাসের ১২ তারিখে তাসনিমের হলুদ সন্ধ্যা উৎযাপিত হল। সেই হলুদে হাতেগুনে আমরা মানুষ ছিলাম মাত্র কয়েকজন। মেয়ে পক্ষের হয়ত ৩০ জন এবং ছেলে পক্ষের ২৫ জন। আমি হাতে গুনিনি শুধু ধারনা করে বলছি। জীবনে প্রথমবার একেবারে সাধারন একটা হলুদ খেলাম যাকে আমি বলব একেবারেই টিপিকাল মিডল ক্লাস হলুদ। আমার বাসা থেকে মাত্র দুই মিনিটের হাঁটা পথ তার বাসা। আমার স্টাডি রুম থেকে তাসনিমের হলুদের স্টেজ দেখা যাচ্ছিল। জী, তাসনিম যেমন আমাদের জিম পার্টনার তেমনি আমার অতি কাছের প্রতিবেশি। তার বাসা এবং আমার বাসার ব্যাবধান মাঝে মাত্র একটা বাড়ি।তারপরও আমরা গাড়িতে করে গেছি! কেন? ইচ্ছা !
দুনিয়াটাই চলে যার যার ইচ্ছার উপর। আসলে শাড়ি পরেছিলাম বলে গাড়িতে। এত ময়লা কাঁদা চারিদিকে সেদিন ছিল বৃষ্টির কারনে যে হেঁটে যাবার কোন উপায় ছিল না।
আমার কাতান শাড়ি পরতে যেয়ে বিশাল ট্র্যাজেডি হয়ে যায়। জীবনে প্রথমবার অনুভব করি আমি শাড়ি পরা ভুলে গেছি। কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে শেষে পাশের পার্লার এ যেতে বাধ্য হই। সেখানে আমাকে প্রথমে উলটা পালটা শাড়ি পরাল, দুই বার খুলালাম এবং তৃতীয়বারে আমাকে কোন ভাবে শাড়িটা পরাল। আমি প্রচন্ড খুঁত খুঁতে স্বভাবের, আমার কোন কিছু যদি মনের দিক থেকে পারফেক্ট না হয় তো আমি তার পিছনে লেগে থাকি। শাড়ি পরাতে যেয়ে যখন আমার জন্য তিন জন বিউটিশিয়ান একবার ডানে একবার বামে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে দেখি অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে না হলেও দশ জন তাকিয়ে আছে। একটু লজ্জা পেয়ে আবার শুরু করলাম হৈ চৈ!
বেশ কিছু ছবি তুললাম, লাইট এর স্বল্পতার কারনে বেশির ভাগ ছবিই আসল মঙ্গল গ্রহের অদেখা প্রানীদের মত। মঙ্গল গ্রহে কোন প্রানীর সন্ধান পাওয়া গেছে কি? পেলেই বা আমার কি? আমি তো পৃথিবী নিয়েই বাঁচিনা আবার মঙ্গল গ্রহ নিয়ে কখন ভাবতে যাব কিন্তু আপনি ভেবে নিন মঙ্গল গ্রহে প্রানি (পানি না কিন্তু) পাওয়া গেলে কেমন হবে সে দেখতে! ছবিগুলো ক্যামেরা থেকে কম্পিউটার এ ট্রান্সফার করার পর বিশাল সাইজের ছ্যাকা খেলাম। এত জঘন্য আমাকে কেন দেখাচ্ছে ছবিতে আমি জানিনা। শুধু আমি না, সবাইকেই! যাই হোক, হলুদ দেবার সময় কোন ভাল ছবি নেই কিন্তু হলুদ দেবার পর বেশ কিছুক্ষন ফটো শুটিং হয়। ক্যামেরাmen ভাইজানেরা (আসলে অনেকজন ক্যামেরা নিয়ে ছিল) কেন যেন খুব আগ্রহের সাথে আমাদের ছবি তুলছিল। হতে পারে সেই পুরো হলুদে আমাদের থেকে well dressed and well behaved আর কেও ছিল না! sad!!

খাওয়া নিয়েও সামান্য ট্র্যাজেডি হয়ে যায়। আমার এক বান্ধবি হিন্দু, সে গরুর মাংস খায়না। দুঃখের বিষয় এত অসাধারন গরুর মাংসের তেহারি রান্না হয়েছে কিন্তু সে খেতে পারেনি। কোন রকম তেহারির রাইসগুলো নিয়ে বেচারি জর্দা খেয়ে পেট ভরিয়েছে। ব্যাপারটা সত্যি খুব আশ্চর্যজনক ছিল। নীচেই ওদের বাসা, কেও কি সামান্য ভাত এনে বা এক টুকরা মুরগির মাংস ওকে এনে দিতে পারেনি? বান্ধবির জন্য আমার খুব খারাপ লাগে কিন্তু যেই মুখে আমি তেহারি দেই, সব ভুলে যাই। আমি মনে হয়ে অনেক বছর পর এত ahhsome তেহারি খেয়েছি। সেই তেহারি আমি গত কাল রাতে স্বপ্নেও দেখেছি। সত্যি, তেহারি ছিল অসম্ভব মজাদার। রাতের বেলা আমি খেতে পারিনা না হলে দুই প্লেট আমি খেতামইইই!!
পাত্র লন্ডন প্রবাসী তবে বাংলাদেশের নাগরিক। আমি জানিনা তাসনিমের লন্ডন যেতে কত সময় লাগবে তবে খুব মনে পরবে মেয়েটাকে। তাসনিমের বিয়ে নিয়ে একটা আলাদা পোস্ট আমাকে দিতেই হবে। এত ahhsome একটা বিয়ের ঘটনা ব্লগ এ না লিখে রাখলে কি চলবে?আমার জীবনে প্রথম দেখা এমন বিয়ে! সে আরেকদিন জানাব।
তবে যারা আমার এই পোস্ট এই মুহুর্তে পড়ছেন, প্রত্যেকেই দুই হাত তুলুন, আল্লাহ’র দরবারে তাসনিমের জন্য তিন বার সুরা ফাতেহা পড়ুন
… আমিন।
Allah notices you!