Intermission!
সিনেমা দেখতে দেখতে হঠাৎ করে intermission শুরু হল! টান টান উত্তেজনার মধ্যে আকস্মিক বিরতি দিয়ে সবার আনন্দ নষ্ট করে দিল। কি হবে হবে ভাবতে যেয়ে দেখা গেল কাহিনি ভুলে গেছি। পরিস্থিতি পালটে যেয়ে হয়ে গেছে, “কি যেন হয়েছিল?”! আমার জীবনটাও ধুম্ করে সিনেমার intermission এর মত হয়ে গেল। দীর্ঘ নয় মাস ধরে এক টানা ওয়ার্ক আউট করছি নিজেকে সুস্থ্য করার সফল প্রচেষ্টায়, সেখানে কথা নেই বার্তা নেই গত শনিবার বিশ মিনিট aerobics করার পর বাম পায়ের thigh কেমন শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করল আমার সাথে। একেবারে সোজা বিছানায় ফেলে দিল। আমি কি বিছানায় শুয়ে থাকবার মত মেয়ে না কোন দিন কেও রাখতে পেরেছে আমাকে? এই ব্যাথা নিয়েই আমি ওয়ার্ক আউট করতে থাকলাম, পেইন স্পেসালিস্ট এর শরাপন্ন হলাম সাথে এক ডজনের উপর ঔষধ খেয়ে খেয়ে নিজেকে ক্লান্ত বানিয়ে ঘরে বসে বসে আপেলের সমান কুল খেলাম। লাভ কি হল কিছু? হল না! তাই গত দুই দিন ধরে পুরো বেড রেস্ট! যেই জিনিষটা আমার কাছে সব চেয়ে কুৎসিত লাগে। সুনীল শেঠীর থেকেও কুৎসিত।
এই দুই দিন ঘরে বসে বসে আমি বেশ কিছু ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। কিছু ব্যাপার এত বেশি রকমের ahhsome যে আমি ব্লগ এ লগ ইন করতে বসে গেলাম!
Time and tide wait for none:
কথাটা আগে খেয়াল করিনি। গতকাল ভোর ছয়টায় হঠাৎ কোন একটা বিচিত্র কারনে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি একদম কাটায় কাটায় ছয়টা বাজে। আমার প্রায় দুই মিনিটের উপরে সময় লাগে বুঝতে এইটা কি সকাল ছয়টা নাকি সন্ধ্যা ছয়টা। আমি কোথায়? গাড়িতে না বাসায়? আজব লাগে! গাড়িতে আমি কোন দিন ঘুমাই? এমন কেন মনে হল আমি বুঝলাম না। ঔষধের সাইড ইফেক্ট? আজ পর্যন্ত একবারি ঘুমিয়েছিলাম গাড়িতে। না ঠিক গাড়িতে না, আমি বাসে ঘুমিয়েছিলাম। তাও মালায়শিয়াতে। পিনেং যাবার সময়। বিদেশে গেলে মানুষজন প্রকৃতি দেখে, উপভোগ করে মনোরম পরিবেশ আর আমি বাসের মধ্যে টানা তিন ঘন্টা ঘুমিয়েছিলাম। উঠতাম না, একবারে পরের দিন সকলে উঠতাম কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর কারনে আমাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছিল। না , ছিঃ! ঘার ধাক্কা দেইনি শুধু বলেছিল নেমে যেতে। অথচ ঢাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থাকলেও আমার ঘুম আসে না। শুধু গালি আসে মাথায়। যাকে ইচ্ছা গালি দিতে ইচ্ছা করে। এত বছর জ্যামে বসে বসে অভ্যাস হয়নি! আর বাথরুম লাগলে তো কথাই নেই! আচ্ছা গাড়িতে বসে বাথরুম লেগেছে এমন কি কেও আছেন? আপনাদের অভিজ্ঞতা শুনতে ইচ্ছা করছে। হ্যাঁ, যা বলছিলাম, তাহলে কালকে এমন কেন লাগল? এই চিন্তা করতে করতে আমার ঘুমিয়ে পরি। এক ঘুমে সকাল এগারটা। এর মধ্যে ফোন দিয়ে বেশ কয়েকবার মেইল চেক করলাম, টুইটার এবং ফেইসবুক তো আছেই!
আজকে সকালে আবারো ঘুম ভাঙ্গল একদম ঘড়ি দেখে সাড়ে ছয়টায়। লাফ দিয়ে উঠে কেন যেন লাইট বন্ধ করতে গেলাম! লাইট বন্ধ করে আমার জ্ঞান আসল। দেখি পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে আছে। বুঝলাম না আমি কোথায়, স্বপ্ন দেখছিলাম। এত টুকু মনে হছে স্বপ্নে আমি জার্মানি থেকে ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছি। ইন্দোনেশিয়ার এক বিল্ডিং থেকে আমার মনে হয়েছে নোয়াখালির কোন এক টাওয়ার এর সাথে হুবুহু মিলে যাচ্ছে। না আমি কোন দিন ইন্দোনেশিয়া গেছি, না কোন দিন নোয়াখালি! আমি মনে হয় BPL এর বরিশাল বার্নারসদের নিয়ে এত বেশি চিন্তা করে ফেলেছি যে স্বপ্নে আজব আজব জিনিষপত্র দেখছি! ইন্দোনেশিয়া এবং নোয়াখালির কানেকশন আমি এখনও খুঁজে পাইনি। কিছুক্ষন বেডে চুপ করে বসে থেকে মনে হল ঘুমিয়ে পরি। দিলাম ঘুম। কিছুক্ষন পর আবারো ঘুম ভাঙ্গে ফোনের শব্দে। ভাইব্রেট করল। হয় whatsapp এ ম্যাসেজ না হলে কোন মেইল। বাকি নোটিফিকেশন বন্ধ আছে! কিছুক্ষন টুইটিং করে আবার ঘুমিয়ে পরলাম। এক ঘুমে দুপুর ১টা! তারপর যতবার ঘড়ি দেখছি ততবারই মনে হচ্ছে ঘড়ির কাঁটা কোথায় যেন আটকে আছে। একবার সেল ফোনে সময় দেখি একবার বের হয়ে ডাইনিং এর বিশাল সাইজের ঘড়ি তো একবার কম্পিউটার এ ঘড়ি দেখি! সময় নাকি কারো জন্য অপেক্ষা করে না কিন্তু আপনি যখন সময় পার হয়ে যাবার জন্য অপেক্ষা করেন তখন কেমন লাগে বুকের মধ্যে খানে মন যেখানে সামিনা নবির মত?
এতদিন ছিল সময় পাইনা সময় পাইনা আমাকে ক্ষমা কর আর এখন হয়েছে সময় কাটেনা সময় কাটেনা আমাকে কিছু কাজ দাও!
Television: chewing gum for the eyes:
Its the other way around for me! Mr.Frank Lloyd Wright কথাটা কার জন্য বলেছিলেন আমি জানিনা তবে অবশ্যই আমার মা’র জন্য শতকরা ৯৯ ভাগ সত্য! ভদ্রলোক কি বেঁচে আছেন? বেঁচে থাকলে আমার একবার হলেও মা’র সঙ্গে তার কথা বলার ব্যাবস্থা করে দেয়া দরকার! এই পৃথিবীতে সব চেয়ে অসহ্য যদি কিছু থেকে থাকে তা হবে টেলিভিশন দেখা! আমি খুব বেশি হলে আধা ঘন্টা একটানা টিভি দেখতে পারি। এর পর আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলেও কেও টিভি দেখাতে পারবে না। শুধু টিভি কেন, কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। এই যেমন কিছু দিন আগে এই পোস্ট এ আমি লিখেছিলাম আমার টিভি এলার্জি প্রসঙ্গে! সেই আমি গত দুই দিন ধরে কম করে হলেও বার ঘন্টা টিভি দেখেছি!
টিভি চলেছে আপন মনে আমিও এদিক থেকে সেদিক থেকে টিভি দেখছি। চ্যানেল চেঞ্জ করে করে মুভি দেখেছি দুটো, কাল MTV Roadies দেখলাম প্রায় আধা ঘন্টা, ক্রাইম পেট্রোল দেখেছি! জী বাংলার সব চেয়ে নিকৃষ্ট ধারাবাহিক রাশি তার নামটাও স্যালাইন গিলে ফেলার মত গিলে ফেলেছি! এমনকি দুই একজন বন্ধু যখন ফোন দিয়ে বলেছে কথা বলতে চায় (তাদের মতে আমি বাসায় বসে বসে মরে যাচ্ছি) তাদেরকেও আমি “পরে ফোন দিও টিভি দেখছি ” বলে চমকে দিয়েছি! আরো আবিষ্কার করলাম, আমাদের শেষের দিকে মানে চল্লিশ এর পর বেশি কিছু দেশি বিদেশি চ্যানেল দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে একটা ETC! এই চ্যানেলটা সেই ১৯৯৪ সালের দিকে দেখেছিলাম। মাঝে বহু বছর বন্ধ ছিল আমাদের এরিয়াতে। হঠাৎ করে ETC দেখে পুরনোদিনের সুখের স্মৃতি মনে পরে গেল! সেই DDLJ এর শাহরুখ খান আর কত শত গানের বাহার নিয়ে বসে থাকত চ্যানেলটা!
এইবার আসি ahhsome একটা বিষয়ে, কাল রাত আনুমানিক একটার দিকে চ্যানেল সময় দেখতে যেয়ে হঠাৎ করে মনে হল, জায়গাটা চেনা চেনা লাগে। কোন জায়গা এইটা? পরে যখন নিজের এপার্টমেন্ট এর সামনেটা দেখলাম তখন একদম নিশ্চিত হলাম আমার বাসার সামনেই এসেছিল তারা! ইশ্ একটু কেও বলত আমাকে, ইন্টারভিউ দিতাম! কেও রিপোর্টারকে খবর দিয়েছে! বেশ কিছুক্ষন WASA’র পনের গুষ্টি উদ্ধার করল চ্যানেলটা! না, আসলে তারা বোঝাতে চেয়েছে এইভাবে রাস্তা খোঁড়া খুঁড়ি করেও প্রকৃত সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না! জীবনটাকে শেষ করে দিয়ে, যাতায়াতের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েও বলে কোন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না! কিন্তু এই প্রকৃত সমস্যাটাই আমি বুঝতে পারিনি। বাকি সব বুঝেছি!

One cannot think well, love well, sleep well, if one has not dined well!
আমি একটা ব্যাপার বেশ গভীরতার সাথে অনুভব করলাম যে বাসায় বসে থাকলে আমার শুধু খাই খাই করে মন।আমি জানিনা কেন?! বাসার বাহিরে থাকলে আমার যেমন খাবারের কথা মনে পরে না বা খাবারের প্রয়োজন বোধ করিনা, বাসায় থাকলে ঠিক তার উলটোটা হয়। আমি আগে কখনও এইভাবে চিন্তা করে দেখিনি কিন্তু এই প্রথম আমার মনে হল দরকারের থেকে অনেক বেশি ক্যালোরি আমার আহার হয়ে গেছে! কুল থেকে শুরু করে কিসমিস, কোন কিছুই আমার তালিকা থেকে বাদ যায়নি। দিনে আমি এক কাপের বেশি চা খেতে চাইনা অথচ বাসায় থাকার কারনে দুই/তিনবার চা খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। মা’কে বললাম যে কয়দিন আমি বিশ্রামে থাকব সে কদিন যেন বাহির থেকে কোন স্ন্যাক্স না আনা হয় অথচ গত দুই দিন ধরে এক মামার বাসা থেকে দফায় দফায় খাবার আসছে। একবার আসল খিচুরি, একবার পাকোড়া সহ নানা ধরনের ভাঁজা, আবার আজকেও এসেছে চিকেন ফ্রাই সব বেশ কিছু রান্না! আমার বেড রেস্ট এর সাথে সাথে কেন এত রকমের খাবার মনের আনন্দে গৃহে প্রবেশ করছে সেটাও বুঝলাম না! ভাবলাম যে কদিন জিমে যাব না সে কদিন অন্তত ফ্যাট আছে এমন খাবার খাব না অথচ আমার হচ্ছে ঠিক তার বিপরীত। আমার খিদাও লাগছে সেই পরিমানের। যত মন কে বলছি আর ধরবিনা কলা, তেমনি মালটা খেতে ইচ্ছা করছে। একটু আগেও আমি একটা কুল খেয়ে আসলাম। সন্ধ্যা থেকে এই নিয়ে হাজারো রকমের খাবার চিন্তা আমার মাথায় আসল। একবার কেইক তো একবার বোরহানি তো আরেকবার টাইম আউট এর ahhsome চাইনিজ! কেও কি আছে যে আমার মুখে বিশাল আকৃতির একটা স্কচ টেইপ ভালমতে লাগাতে পারবে?
ডায়েট এবং ওয়েট নিয়ে আমি যেই পারিমানে চিন্তিত তা দূর করতে আমাকে নাকি বিদেশ পাচার করা হবে! আমার এক ফ্রেন্ড একটু আগে ফোন দিয়ে বলল আমাকে সে সোমালিয়ায় পাঠানোর কথা ভাবছে। একমাত্র সোমালিয়াতে গেলেই নাকি আমি সম্পূর্ন সুস্থ্য হয়ে সমাজে ফিরে আসতে পারব। ওখানে এক বছর থাকলে নাকি আমার মুখের খাবার নিতেও এক ধরনের Guilty কাজ করবে।I don’t mind as long as they offer the internet connection। সেখানে যেয়েও তো আমাকে up to date থাকতে হবে! তাই না?
Oh, yeah, I love DVD’s? Who says that?
শব্দ দূষন কি তা নিয়ে কখন ভাবতে যাইনি কিন্তু ভাবছি একটা রিসার্চ পেপার লিখে ফেলব। আমাদের উপর তলার আন্টির ফ্ল্যাট হবে সেই রিসার্চের মূল অংশ! রাত তিনটার সময় প্রচন্ড শব্দ করে কে যেন চেয়ার টানল। শব্দটা এমন ভাবে মস্তিষ্কে আসল যে আমি কিছুক্ষনের জন্য থমকে যেয়ে বুঝতে পারলাম না মাথার উপরে কেও চেয়ার টানল নাকি আমার রুমে?! আমার রুমে কোন চেয়ার নেই যা টানলে এত জঘন্য শব্দ হবে। আমি প্রতিবেশি হিসেবে মহান। আমার নীচের তলার নামকরা লেখিকা দশ বছরে কোন দিনও কোন অভিযোগ করতে পারেনি। পারার কথা না। আমি নিজেও হাঁটি গুটি পায়ে। আর উপর তলার খানদানি প্রতিবেশিরা শুধু চেয়ার/টেবিল না ,ফার্নিচার ধরেও টানাটানি করতে থাকে। আমি বুঝিনা এত শব্দ করে বাসার কোন ফার্নিচারটা তারা শিফট করে? খাঁট নিয়ে কি এক রুম থেকে অন্য রুমে যেতে থাকে? আর মাঝে মাঝে এমন ভাবে অনেকজন দৌড়া দৌড়ি শুরু করে যে মনে হয় বাসা তো না যেন ওয়ান্ডারল্যান্ড এ বেড়াতে এসেছে সবাই।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের কোন নির্দিষ্ট সময় সূচি নেই। যখন ইচ্ছা হয় দেয় টান! নীচে কেও বেঁচে আছে না তাদের ফার্নিচার টানাটানির শব্দে মরে গেছে তা নিয়ে ওদের কোন মাথা ব্যাথা নেই! আর টান মারলে আমি নিশ্চিত আমার নীচের তলা পর্যন্ত শব্দ যায়। পরশু সারা রাত কেও একজন মার্বেল নিয়ে খেলেছে। আমার যখনই ঘুম ভাঙ্গে মনে হচ্ছে মার্বেল আমার কপালে মারছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি ফোন দিলাম তাদের বাসায়। এক কাজের মেয়ে ধরে বলে, “বাসার খালাম্মা নাই।” কোথায় গেছে? “জানিনা, বলে যায়না।” দিলাম বকা। এই জন্যই তোরা ঘরের মধ্যে দৌড়া দৌড়ি করতে থাকিস। তোদের খালাম্মা আসুক দেখাব মজা। এমন ভাবে হাসি দিল যেন মনে হল খালাম্মাও ওদের সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলে!! খালাম্মা কে বললে যেন কিছুই হবে না! নাকি খালাম্মা ওদের ভয় পায়। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে আন্টি বাসায়ই থাকেনা। কোথায় যে যায় এক মাত্র আল্লাহ্ জানেন। একদিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গিয়েছিলাম উপর তলায়। বেল দিলাম, দরজা খুলল প্রায় তিন তিনটা বাঁদর সাইজের কাজের মেয়ে। বললাম বাসায় কে আছে, যে আছে তাকেই ডাক। ডেকে নিয়ে আসল এক বুড়িকে। সেই বুড়ি সবে মাত্র গ্রাম থেকে বেড়াতে আসছে। এক তো বয়স্ক মহিলা তার উপর আবার মেহমান! মনে মনে কয়েকটা গালি দিয়ে চলে আসলাম বাসায়। এইযে আমি ব্লগ লিখছি, এখনও টানাটানি চলছে! সোসাইটি কে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করলাম। সোসাইটি তাদের অনেকবার হুমকি দিল, কাগজ পাঠাল। দুই দিন পর আবার শুরু। আমরাই ক্লান্ত হয়ে গেলাম অভিযোগ করতে করতে কিন্তু ওদের চেয়ার টেবিল এখনও ভাঙ্গলনা! শকুনের দোয়ায় আসলে গরু মরছে না!
এই অত্যাচারের পাশাপাশি আমি আরেক অত্যাচার বের করলাম। গত দুইরাতই এই ঘটনা ঘটল। আমার ঠিক পাশের ফ্ল্যাট এ কেও একজন রাত ২টার পর অনেক ভলিউম দিয়ে DVD দেখে। আমার ধারনা হলিঊড এর action ফিল্ম দেখে। ভয়ঙ্কর শব্দ এবং প্রায় বিল্ডিং কেঁপে উঠবে এমন অবস্থা। প্রথম রাতে আমি বুঝতে পারিনি। আমার মনে হল হয়ত নতুন DVD player নিয়ে আসছে তাই experiment করছে, কিন্তু কালকে রাতেও যখন একই পাওয়ার দিয়ে DVD play করল তাতে মনে হচ্ছে প্রতি রাতেই তারা দেখে। আমি কাল রাতে ঘর থেকে বের হয় লিভিং রুমে গেলাম। সেখান থেকে ওদের লিভিং রুম স্পষ্ট দেখা যায়। মাঝে শুধু বিশাল খোলা জায়গা। বায়ূ নির্গমনের জন্য করেছে। সেখানে দেখলাম আলো ফ্ল্যাশ করছে। জ্বলছে, নিভছে! শব্দ শুনে যে কেও এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেনি আমি তাতেই হতাশ হলাম। কিছুক্ষন পানির গ্লাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখি মাথার উপর বিকট শব্দ করে উপরে চেয়ার টানল। আমার মুখটা সে সময় কেমন হতে পারে? কল্পনা করে নিয়েন। আমি সেইভাবে ঘরে ফিরে এসে হালকা মিউজিক কানে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। ঘুমিয়েও পরলাম। আমার mp3 প্লেয়ার এর কখন যে ব্যাটারি শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে বলতে পারব না।
এইবার আপনাকে একটা প্রশ্ন করব? জী, আপনাকে। এতক্ষন ধরে যে ব্লগটা পড়লেন,কেন পড়লেন? আমার না হয় কোন কাজ করা নিষেধ, আমার বাম পা’র জন্য বাসা থেকে বেরও হতে পারছিনা আবার কোন কাজও করতে পারছিনা কিন্তু আপনি কেন এত সময় নষ্ট করলেন?
প্রশ্নটা এড়িয়ে যান। ইংলিশ এ বলে, ignore. I G N O R E ! পায়ের উপর ভর করেই মানুষ হাঁটে। যার পা নেই সে না জানি জীবনে বেঁচে থাকার জন্য কত কষ্ট করে। শেষে এসে emotional ডায়ালগ মেরে বিদায় নিতে চাইনা। আমি আসলে বলতে চাচ্ছি, শরীরের পাশাপাশি নিজের পায়েরও যত্ন নিন। তার মানে এই না যে আপনাকে হোটেল The westin এ যেয়ে বডি ম্যাসাজ নিতে হবে। আপনি নিজেই নিজের পায়ের যত্ন নিতে পারেন। সেটার জন্য আপনাকে হাতের আঙ্গুলের ব্যাবহার করতে হবে। জী, go to google.com and search !
till then, সবাই প্রতিবেশির সাথে ভাল আচরণ করুন এবং জেনে রাখুন, আপনার প্রতিবেশিদের মধ্যে কেও গুরুতর অসুস্থ্য হতে পারে। কোন কিছু শব্দ করে করার আগে নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকুন। অন্যকে কষ্ট দিয়ে আপনার একাউন্টএ দুই পয়সাও আসবে না বলে দিচ্ছি! কখন, কিসের জন্য আপনাকে ধাক্কা খেতে হয় জীবনে তা কেও বলতে দিতে পারবেনা। সুতরাং ভাল থাকুন এবং আশে পাশের সবাইকে ভাল রাখার চেষ্টা করুন। ফ্রী উপদেশ দিয়ে দিলাম।
Remember me in your prayers!
God is kind 