খাবার দাবার আমাকে বরাবরই টানে। এই কারনে পেটের দিক থেকে আমি বেশ এগিয়ে আছি। আমার আরো ৩ ইঞ্চি পেট কমাতে হবে। সমস্যা হচ্ছে আমরা সব কাজ করি পেটটাকে ঝুলিয়ে। বুদ্ধি করে কেও পেট চেপে রেখে কিছু করে না। আমার ইন্সট্রাকটর সারাদিন আমাকে বকা দিতে থাকে পেট ভেতরে দিয়ে ওয়ার্ক আউট না করার জন্য। অনেকের এতদিনে অভ্যাস হয়ে গেছে পেট চাপ দিয়ে কাজ করার কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত করতে পারলাম না। হায় হায়, এই নিয়ে বলতে বসে মনে পরল পেট চেপে টাইপ করার!! কারন, আমার মনেই থাকে না। বিশাল আকৃতির এই মনে যে কে থাকে তা না হয় নাই বলি! তাই আজ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি দুপুরের ভাতটাকে বিদায় জানাব। রাতের ভাত কে দুই বছর আগে বিদায় জানিয়েছি এইবার দুপুরের ভাতকেও বিদায় জানাবার পালা। আমি ahhsomely শুরু করলাম আজ থেকে। দেখি একটানা কত দিন আমি ভাত না খেয়ে থাকতে পারি। নিজেকে পরীক্ষা করার প্রচেষ্টা মাত্র। আশা করি পারব। মনে যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে মানুষ পারে না এমন কিছু নেই!
আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এর আগেও আমি বহুরবার ভেবেছি ভাত খাওয়া ছেড়ে দেব। অনেক তো খেলাম। দুই এক বছর ভাত না খেলে কি হয়। ভাতের বদলে অনেক খাবার আছে খাওয়ার। যেই পরিমানে carbohydrate ভাতে থাকে তাতে দুই এক বছর না খেলে বরং আমার নিজের শরীরই ভাল থাকবে। যেই হারে ডায়াবেটিস এবং কিডনির সমস্যা চারিদিকে শুনছি তাতে মনে হয় এখন থেকেই নিজের প্রতি যত্নশীল না হলে ত্রিশ পৌছাতেই নানা রোগ শরীরে বহন করে বসে থাকব। কিন্তু আমি গত নয়মাস ধরে ভাত খাওয়া ছাড়তে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু দুপুর হলে ভাত না খেলে আমার মনে হয় আমি কি যেন খাইনি কি যেন খাইনি। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে আমার বাম Thigh এর muscles নিয়ে যেই পরিমান কষ্ট করতে হচ্ছে তাতে আমার ভাত কেন, সব ধরনের খাবারে উপর এক ধরনের বিতৃষ্ণা চলে আসছে। মনের মত করে ওয়ার্ক আউট করতে পারছিনা, বেশ কিছু মেশিন ব্যাবহার করতে পারছিনা, সব মিলিয়ে মানসিক ভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত আমি। কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা নিজের thigh injury। বার বার মনে হচ্ছে কেন হল, কিভাবে হল। সব দোষ আমার।
যাই হোক!
বিসমিল্লাহ্ বলে আজ আমি অনেক সাহস করে কিনে নিয়ে আসলাম Kellogg’s K! Its not like i am out of shape কিন্তু আমি স্বাভাবিক ভাবেই মাইনাস বা সাইজ জীরো নয়, একটু সুন্দর দেখতে শেইপ এ নিজেকে দেখতে চাই। তাই বলে আমি পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এমন মেয়েদের মতও দেখতে চাইনা। গলার হাড় বেড়িয়ে থাকবে বা হাত/পা দেখলে মনে হবে ম্যাচের কাঠি, এমন যেন না হয় আল্লাহ্। আমি চাই শরীরে মেদ থাকবে তবে তা থাকবে শেইপের মধ্যে। মানুষ আমাকে দেখে বলবে মেয়েটা অনেক খায় কিন্তু শরীরটা সুন্দর। কোন নায়িকা বা মডেল এর মত না, আমার নিজের মত করেই সুন্দর হতে চাই। আল্লাহ্ আমাকে অনেক দিয়েছেন (আলহামদুলিল্লাহ) যা একটু ঘষা মাজা করলেই নিজের কাছে নিজেকে সুন্দর লাগবে। আসলে দিনে সব চেয়ে বেশি আমি নিজেকে দেখি। নিজের রুপ দেখি, চোখ দেখি, হাত-পা দেখি। এমনকি ওয়ার্ক আউট করার সময়ও আমি অপলক দৃষ্টিতে নিজেকে দেখি। আমার ভাললাগে নিজেকে দেখতে। I am so in love with myself।
আমার এক বান্ধবী প্রথম প্রথম অবাক হয়ে তামাশা দেখত, একটা মেয়ে জিমে এসে কেন নিজেকে মিনিটের পর মিনিট এক দৃষ্টিতে দেখতে থাকে? তার কাছে খুব আশ্চর্য লাগত। সে একদিন আমাকে বলেই বসে, “আর কত দেখবা নিজেকে? অনেক তো হল, তুমি তো সুন্দরই।” আমি যতই সুন্দর হইনা কেন, যতক্ষন না নিজের কাছে নিজেকে সুন্দর লাগছে আমি চুপ করে বসে থাকার মত মেয়ে না। অনেকে আবার আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করে, “বয়ফ্রেন্ড আছে বুঝি? সে কি তোমাকে আরো শুখিয়ে যেতে বলেছে?” excuse me? Talk to my hand! বয়ফ্রেন্ড আমাকে বলবে আর তার কথা আমি গোগ্রাসে গিলে ফেলব এমনটা কোন দিন হয়নি ভবিষ্যৎ এও হবে না। কারো জন্য নিজেকে বদলানোর theoryতে আমি বিশ্বাস করিনা। একজন চেইন স্মোকার কে যেয়ে যদি আমি বলি, “এই শুন আমি তোমাকে ভালবাসি, সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে দাও” ; তার পক্ষে কি খুব সহজে নিজের এত বছরের অভ্যাস কে বদলে ফেলা সম্ভব? হয়ত সে পারবে, যদি তাকে বাধ্য করা হয় সে পারবে। কিন্তু আমি বাধ্য করতে যাব কেন? আমি স্মোকার পছন্দ করি না, আমি তাকে চাইনা। শেষ! নাকি একজন মদ্যপ প্রেমিক কে যেয়ে আমি emotional blackmail করে মদ পান করা বন্ধ করাব? আসলে কাওকে বদলে ভালবাসার মধ্যে কোন আনন্দ আমি পাইনা। আমি মনে করি যে যেমন তাকে তেমনই জীবন সাথী খুঁজে নেয়া উচিত। মানুষকে বদলে তাকে ভালবাসার মধ্যে আমি কোন স্বার্থকতা দেখিনা (সম্পূর্নই ব্যাক্তিগত মতামত)। এই সবে আমি বিশ্বাস করিনা। যাকে বিয়ে করব তার সব কিছু জেনে + মেনে বিয়ে করব এবং দরকার হলে ওজন মেশিনে উঠে নিজের ওজন তাকে দেখিয়ে বিয়ে করব। বয়ফ্রেন্ড এর জন্য সাইজ জীরো বানিয়ে নিজের পরিহাস করতে চাইনা। দিনের শেষে বিবেকের কাছে আমাকে জবাব দিতে হয়। বিবেক কে কি উত্তর দেব আমি? নিজেকে বয়ফ্রেন্ড এর মনের মত করতে যেয়ে এত কষ্ট করার মত মেয়েও আমি না। নিজের জীবনের অসংখ্য ঝামেলা নিয়ে যে বাঁচে না, তার আবার এত শখ আহ্লাদ একদম মানায় না!

তবে আমার এই ahhsome প্রয়াস কতদিন থাকবে জানিনা তবে টানা তিন দিন যদি আমি ভাত না খেয়ে থাকতে পারি তাহলে অবশ্যই আরেকটা ahhsome পোস্ট নিয়ে হাজির হব। Till then, যারা (মেয়েরা) Kellogg’s K কোন দিন খাননি তারা একবার খেয়ে দেখতে পারেন। সকালের ব্রেকফাস্টে! খেতে একদমই খারাপ না। তবে চকলেট কর্নফ্লেক্স কিনবেন না দয়া করে। আর মনে রাখবেন, যতিদন শরীর সুস্থ্য থাকে ততদিনই মনে সুখ থাকে। যেদিন অসুস্থ্য হবেন সেইদিন বুঝবেন শরীরটা পিতলের না, সোনার তৈরী!
Cheers!










