বিদায়গ্রহনের সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে আমার প্রকৃতির মালঞ্চে কৃষ্ণচূড়ার রাজ্য!
গ্রীষ্মকালের কোন একটা ভাল জিনিসের নাম যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আমি সাথে সাথে চিৎকার করে বলব, কৃষ্ণচূড়া! খুব ছোটবেলা থেকে এই ফুলের প্রতি আমার এক ধরনের প্রীতি কাজ করে। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে ব্যার্থ হব কতটা মমত্ব আমার জড়িয়ে আছে এই ফুলের সাথে। কি অদ্ভুত আল্লাহ’র সৃষ্টি! কাঁচা সবুজ রঙের মধ্যে থোকা থোকা লাল লাল ফুলগুলো কি সুন্দর করে ঝুলে থাকে। কাছে যেতেই মনে হয় লালেরও বেশি কিছু রঙ আছে। হালকা লাল, গাঢ় লাল, মিষ্টি লাল, আবার সিঁদুর লাল! আসলেও তো লালের অনেক লাল আছে!
লক্ষ্য করে দেখেছেন গ্রীষ্মকালে প্রকৃতি তাক লাগিয়ে আপনার চারপাশটাকে কি সুন্দর করে রক্তবর্ণ করে তুলে? লক্ষ্য করে দেখেছেন কি বিস্ময়কর আল্লাহ”র এই অশ্রুতপূর্ব প্রনয়ন। নীচে থেকে দেখলে মনে হয় নীল আকাশে লাল সবুজের প্রমোদবাজার! আমি জানিনা কি আছে সেই লাল ফুলে, তবে এতটুকু জানি, প্রতি মৌসুমেই কিছু না কিছু ফুল আছে যা আমার মনকে ভীষনভাবে নাড়া দিয়ে যায়। অন্তরের অন্তস্তল থেকে আমার এই ভালবাসার জন্ম। তাই যেখানেই আমি কৃষ্ণচূড়ার সন্ধান খুঁজে পাই, এক মিনিটের জন্য হলেও গাড়ি থেকে নেমে আমি তুলে ফেলি সেই পরিবেশের চিত্র! এইভাবেই আমি তুলেছিলাম আমার বাসার সব চেয়ে কাছের গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা কৃষ্ণচূড়ার ছবি।

ছবিটা আমার Instagram এ আছে! গুনমানের দিক থেকে Instagram’ই শ্রেষ্টতর। আরেকটি ছবি আমি শেয়ার না করে থাকতেই পারছিনা। খুব ভোরে আজ ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সকাল ৫.৪৫ বাজে। এখন আমার প্রায়ই সকালে ঘুম ভাঙ্গে, তার কারন আমার যত দিন যাচ্ছে তত ঘুমের পরিমান অল্পতর হয়ে যাচ্ছে। জানিনা কেন। তাই যেই iphone টা হাতে নিলাম, সাথে সাথে মনে হল কৃষ্ণচূড়ার ছবিটা একবার দেখি। দেখলাম, দেখে কেন যেন নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোনায় মৃদুহাসি এসে উপস্থিত হল। আমি প্রস্তুত ছিলাম এমন হাসার! হাসার জন্য বুঝি প্রস্তুতি লাগে? লাগে তো! আমার লাগে! মাঝে মাঝে…

কি অসাধারন! নিসর্গের অস্বভাবিতা ! কৃষ্ণচূড়ার লাল গালিচা! হেঁটে যাবার সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে যাই এই দৃশ্য দেখে। অসংখ্য পাঁপড়ি পরে ছিল রাস্তায়। একটু একটু ঘাস, আর ঘাসের সাথে মিশে ছিল কৃষ্ণচূড়ার অলঙ্করণ! ছবিটা আমি না তুলে পারিনা। সাথে নিজেকে এতটা উত্তেজিত আমি খুব কম সময়ই পাই। আমা প্রিয় ফুলের বিকাশ আমার সব চেয়ে অপছন্দের ঋতুতে। আমি কোন ভাবে গ্রীষ্মকালের রাজকীয় উত্তাপ কে সহ্য করে নিতে পারিনা। আমার ঘর সারাদিন শীতাতপনিয়ন্ত্রীত, আমার গাড়ীতেও একই অবস্থা, এমনকি আমি যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছি বা করতে যাচ্ছি সেখানেও আমাদের কে তাপমাত্রার প্রকোপ বুঝতে দেয়া হয়না। ছোটবেলায় কিভাবে পড়েছিলাম স্কুলে এখন ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। আমার সন্তানদের নিয়ে আমি কি করব ভাবলেই আমার মনে হয় আমি দুঃস্বপ্ন দেখছি! মা মাঝে মাঝে বলে, গরম সহ্য করতে পারছনা কয়েক বছর ধরে, একটুতেই শরীরে চামড়ায় লাল লাল ফুসকুড়ি উঠে যাচ্ছে, কথায় কথায় জ্বর হচ্ছে, বিয়ের পর কি করবা? আমি হেসে উত্তর দেই, কেন মা, ঘরের এসিটা খুলে নিয়ে যাব
গ্রীষ্মকালের আরেকটা জিনিস আমার খুব ভাললাগে তবে তা অন্য ঋতুতে দেখা দেয়, বলুন তো কি? বজ্রধ্বনি!
বর্ষার জন্য অধীর প্রতীক্ষা! কবে বৃষ্টি পড়বে টাপুর টুপুর, কবে গাছগুলো বার বার নৃত্যোৎসবে মেতে উঠবে তুমুল বর্ষনে! কবে আমি আমার ছাতাটা ফেলে দিয়ে বৃষ্টিকে দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গন করব, কবে আমার শ্বাসপ্রশ্বাসে থাকবে বৃষ্টির জলের অনাবিল ঘ্রান? আর রাতের বেলা, আঁধার হবার সাথে সাথে বেজে উঠবে, ” এই বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি নেই বলে… “
কৃষ্ণচূড়ার রাজ্যে আপনাকে স্বাগতম !!
পাখি কেন গান গায়না?












