Her story continues everyday..

On the couch staring at the laptop and having intellectual discussions on the net!

  • এক মেয়ের জীবনীকার…
  • বাংলা চর্চা
  • ব্যানার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড

১ বছর…

Posted by নিঃশব্দতার ছন্দ on মে 1, 2012
Posted in: অসমাপ্ত গল্প, আমার মত কেও..., কাঁচের বাক্সে ঘড়ির কাঁটা, জীবনে যেমনটি হয়. Tagged: এক বছর, ব্লগ, ব্লগার, ব্লগিং. ১টি মন্তব্য

কিছু মনের কথা ছিল যা আমি কখনও কাওকে বলতে পারিনি। কিছু কথোপকথন ছিল যা আমি কখনও কাওকে বলার প্রয়োজন মনে করিনি। অনেক সময় যন্ত্রনায় ভেঙ্গে চূর্নবিচূর্ন হয়েছি, কখনও অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে মুখের কাছে এসেও অনেক শব্দ উচ্চারিত হয়নি। কিন্তু এক কোন এক অন্যমনস্ক অপরাহ্ন বা সন্ধ্যার প্রকাল্লে আমি আমার আগোছালো মনের ভাবনাগুলোকে ঠিকই জায়গা করে দিয়েছি লেখার মাধ্যমে। ডায়েরি থেকে অনলাইনের এই ব্লগ, যাত্রা আমার মসৃন! ব্লগ আছে বলেই অনেক সময় নিজেকে আহত না করে, লিখে ফেলি গভীরতম প্রনায়ানুভূতি! ওয়ার্ডপ্রেস কে অনেক ধন্যবাদ সাথে আমার ইন্টারনেট কানেকশন প্রভাইডারদেরও!

উল্লাসের সময় হোক আর গভীর শোকার্ত কোন মুহুর্ত, আমি সব সময় চেষ্টা করেছি নিজের অনুভূতিগুলোকে ধরে রাখার জন্য। এমন একটি জায়গায় যেখানে আমার সাথে যুক্ত হতে পারে আমার মনের মত মিল হয় এমন আরো অনেক রুপকথার পরী বা রাজকুমারেরা। সামান্য এই জীবনে মানুষ চলতে চলতে কত শত চমৎকার অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়, ঝিলমিল করে সেই সব ঘটনা। আর সেই সব ঘটনা কে স্মৃতি বানিয়ে হাতের মুঠোয় ধরে রাখার মধ্যে যে আনন্দ তা এই ব্লগ পড়ে আমি আবারও বুঝতে পারলাম। টানা এক বছর আমি কোন ব্লগ বহাল রেখেছি শুধু মাত্র নিজেরই ঝলমল করা অতীতকে পুনরায় আঁকরে ধরে রাখার জন্য!

আজ আমার ব্লগ এর বয়স এক বছর!

এই এক বছরে আমি চেষ্টা করেছি প্রতি মাসে অন্তত পাঁচটি করে ahhsome ঘটনাকে তুলে ধরে রাখার জন্য! মনে হয় আমি তার থেকে একটু বেশিই পোস্ট করেছি!  নিজেকে অনেক সৌভাগ্যশালী মনে হচ্ছে কারন আমি ব্লগ খুলেছিলাম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাখব বলে কিন্তু এর মধ্যেই আমি বেশ কিছু রচনাকারীর সাথে পরিচিত হতে পেরেছি লেখারই মাধ্যমে। তারা কেও কেও আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট আবার কেও কেও অনেক বড়! কিন্তু আমরা একে অন্যের বেশ কাছাকাছি আসতে পেরেছি লেখার মাধ্যমে। যেই সময় এবং কর্মশক্তি দিয়ে আমরা এক একটা লেখাকে জীবন দেই, সেই লেখাগুলোকে যদি একজনও পড়ে এবং মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দেয় তারা নিজেদের মহামূল্যবান সময় অপচয় করে তা পড়েছে, এর থেকে বড় অর্জন একজন ব্লগার এর কাছে আর কিছু  হতে পারেনা। আপনি কবে থেকে আমার ব্লগ পড়ছেন নাকি ভুল করে একবার এসেছিলেন এবং চলে গেছেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আপনি এসেছিলেন, সময় পার করেছেন, আমার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলো জানতে পেরেছেন এই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ন। আমি কারো নাম বিশেষভাবে নিতে চাইনা শুধু এতটুকু বলতে চাই, আমাকে উৎসাহিত করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভাগ্যসুপ্রসন্নই বটে আমার!

খুঁজি আমি কাহারে…

Posted by নিঃশব্দতার ছন্দ on এপ্রিল 30, 2012
Posted in: আমার একবেলা ছুটি, গানের গুনগুনানি, জ্যোৎস্নাক্রান্ত ভাললাগা, পূর্নচন্দ্র মধ্যগগনে. Tagged: তাল তমালের বোনেতে, বাংলা গান, মহান আল্লাহ্‌, লালন, সুখ. 5 comments

আমাকে এক বন্ধু হঠাৎ জিজ্ঞাসা করে বসল, এইযে তুমি জীবনে খুব ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ভাব, কাঁদ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়কে অনুভব করে নিজেকে ভারসাম অবস্থায় রাখ, এর অভিষ্ট লক্ষ্যটা কি? জীবন তো চার দিনের চাঁদনির মত। আজ খুব সুখে দিন কাটাচ্ছ কাল যে তোমার চাল আনতে পানতা ফুরাবে না তার কোন লিখিত অঙ্গিকার আছে? তার কথা শুনে প্রথমে আমার খুব তান অনুভব হয়। আসলেও তো আমি খুব সামান্য বিষয় নিয়েই খুশি হয়ে যাই, খুব তুচ্ছ বিষয় আমাকে কাঁদায় আবার খুব ছোট ছোট ব্যাপার আমাকে ভাবায়। পৃথিবীটা যে দুই দিনের আর এই দুই দিনে যে আমাকে অনেক উপযুক্ত কর্ম নিয়ে যেতে হবে না হলে ভয়ঙ্কর শাস্তি অপেক্ষা করছে , মাঝে মাঝে সেই বিষয়টাই কেন ভুলে যাই বুঝিনা আমি। তারপরও আমি বলব, যদি চিন্তা না থাকত, সর্বক্ষন মানুষ সুখী হয়ে ঘুরে বেড়াত, কোন ঝামেলা ছাড়াই জীবনটা এগিয়ে যেত তাহলে মনে হয় ধর্ম বলে কোন শব্দই কোন অভিধানে থাকত না। কেও আল্লাহ্‌ কে আর স্মরণই করত না। সবই তো চোখের সামনে হয়ে যাচ্ছে, সৃষ্টিকর্তাকে আর মনে পড়ার দরকারকি !!

আমি এখনও বলি, দিনে একবার হলেও আল্লাহ্‌কে ধন্যবাদ জানান নিজের সকল সর্বোৎকৃষ্ট সুখের জন্য। একবার থেকে কবে দশবার হয়ে যাবে, আবার দশবার থেকে কবে প্রতিনিয়ত হয়ে যাবে আপনি টেরই পাবেন না। আমি আসলে পোস্টটা একটা গান শেয়ার করব বলে লিখতে বসেছিলাম। লিখতে যেয়ে হঠাৎ বন্ধুর সে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাললাগার বিষয়টা মনে পড়ে গেল। সেই ক্ষুদ্র ভাললাগার মধ্যে একটা গান পতিত হয়েছে। গানটা শুনেছিলাম দুবাইতে থাকতে। এক বন্ধু শোনাল। সে জানে, আমি সব ধরনের গান শুনি। গানের ব্যাপারে আমার ভাষা নয়, গীতিকার কতটা আবেগের সাথে … বিমুগ্ধভাবে পংক্তিগুলোকে জীবন্ত করে আমার মনে দাগ কাটছে সেইটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ন। কোন দেশের বা সেই দেশের ভাষার প্রতি আমার ঘৃনা কাজ করেনা। সেটা চাইনিজ গান হোক আর হিন্দি! গান … গানই! ভাষার কারনে কারো প্রতিভাকে অসন্মান জানানো আমার কাছে অনেকটা কপটাচারীর মত লাগে!অবশ্য আমি আজ যেই গান নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি তা বাংলা গান। লালনের গান !!

মনকে প্রশমিত করে যায় গানটা! কি অদ্ভুত …ভাষা নেই কিছু বলার!!

গানটা শেয়ার করার দুটো কারন, ভাল কিছু শুনলে বা জানলে তা রোদে ফেলে আঁচার বানানোর কোন মানে হয়না। ভাল জিনিস সব সময় অন্যের সাথে শেয়ার করতে হয়! দাঁড়িপাল্লা দিয়ে কতটা ভাল তা মাপারও কোন দরকার নেই! আর দ্বিতীয় কারন হচ্ছে, ভাল কিছু শুনলে বা জানলে তা রোদে ফেলে আঁচার বানানোর কোন মানে হয়না। ভাল জিনিস সব সময় অন্যের সাথে শেয়ার করতে হয়! দাঁড়িপাল্লা দিয়ে কতটা ভাল তা মাপারও কোন দরকার নেই! ;-)   একই জিনিস দুবার পড়লেন। ভাল জিনিস পড়লেন। ভাল জিনিস দেখলেন। আমি ভাল আপনিও ভাল আর আমাদের ভাল বানিয়েছেন আল্লাহ!

গানটা অবশ্যই শুনবেন এবং শুনে আমাকে জানাবেন কেমন লাগল! গানের সবগুলো লাইনই আমার খুব প্রিয়। লালনের গান প্রিয় না হয়ে যাবে কোথায়! তবে কিছু লাইন অপেক্ষাকৃত বেশি পছন্দের !

এখন কোন গল্প নাই , গল্পে কোন কথা নেই!

দিনও মানে সূর্য নাই, রাতে কোন চন্দ্র নাই…

গল্প করি কাহারে… কবে পাব তাহারে…

বন্ধু আমার বুনো হাওয়া… সুখ হল না প্রানেতে…

আমি আবারও আসব আমার ব্লগ এর এক বছর পূর্তির একটি বিশাল মাপের পোস্ট নিয়ে!! এই প্রথম কোন ব্লগ আমি এক বছর বহাল রেখেছি তাই একটা ভিরচুয়াল ভোজভাতের তো প্রয়োজন আছে তাই না? Till then, সবাই অনেক বেশি করে পানি খাবেন। গরমটা যা পড়েছে তাতে ভাপা পিঠা যেভাবে ভাপে তৈরী হয় আমার নিজের কাছে সেইরকম ভাপে ভাপে দিন যায় এর মত অবস্থা হয়েছে! জানি গরমের দিনে গরম লাগবে তারপরও কেন যেন শরীর সহ্য করতে পারেনা!!

:D

আমার পাঁচমিশালি অন্যমনস্কতা!

Posted by নিঃশব্দতার ছন্দ on এপ্রিল 26, 2012
Posted in: অসমাপ্ত গল্প, আমার মত কেও.... Tagged: গরীব, দান করা, সাহায্য. ১টি মন্তব্য

আমার জীবনের রুপকথা এখন অনেকটা এক ঘেয়ে বকবকানিতে ক্লান্ত করে তোলার মত অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। আমি জীবনে এমন কিছু কাজ করে যাচ্ছি যাতে আমার এবং আমার মনের কোন সমর্থন নেই। মাঝে মাঝে আপনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে থাকেন যাতে আপনার নিজের মনের কোন অনুমোদন না থাকলেও আপনাকে পরিবার বা সমাজের কারনে নিতে বাধ্য হতে হয়! আমার ক্ষেত্রে দুটোই প্রযোজ্য! মাঝে মাঝে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দিনটাকে খুব কষাটে মনে হয়! সূর্যের তাপ, ঘন ঘন নিজের জিনিস পত্র নিতে ভুলে যাওয়া, জীবনে একের পর এক বৈরী মতামত নেয়া সব মিলিয়ে মাঝে মাঝে এত ক্লান্ত লাগে যে ইচ্ছা করে অনেক দূরে কোথাও চলে যেতে। যেখানে কেও আমাকে খুঁজে পাবে না! কিন্তু আমি জানি আমি আমার ঘর ছেড়ে দুই দিনের বেশি থাকতে পারিনা। বিশেষ করে আমার মা’র হাতের চা ছেড়ে তো কোথাও যাবার প্রশ্নই উঠে না!!

আপনার কি মনে হচ্ছে আমি বিষন্নতায় আক্রান্ত? যদি মনে হয়ে থাকে তাহলে একদম ঠিক মনে হচ্ছে ! তবে এই বিষন্নতা স্বাভাবিক বিষন্নতা। এখানে গুরতর কোন বিষাদ নয়। এই বিষন্নতা আমার জীবনকে ঘিরেও নয়! আমার এই খেদ এর কারন একের পর এক মৃত্যুর সংবাদ এবং আমার খুব প্রিয় কাজের বুয়ার ক্যান্সার!

যতবার আমার পরিবার থেকে কেও মক্কা গিয়েছে, ততবার ফিরে আসার পর আমি বংশের কার  মৃত্যুর খবর পেয়েছি। প্রথমবার বাবা মা যেবার হজ্জ এ গিয়েছিল সেইবার আমার আপন চাচাত বোনের স্বামী দুটো কিডনি ফেইল করে আকস্মিক ভাবে মারা যায়! গত বছর বাবা যখন হজ্জ এ তখন আমার ছোটফুপা মারা যান! এইবার আমি যখন ওমরা করে ফিরলাম, পেলাম আরেক চাচাত বোনের স্বামীর মৃত্যুর খবর। দুলাভাইকে সেই ছোট্টবেলা থেকে দেখে বড় হয়েছি। খুব ভাল সম্পর্ক ছিল আমার সাথে। আমি যখনই বোনের বাসায় যেতাম, উনি আমাকে কি কিনে খাওয়াবেন থেকে শুরু করে কখনই খালি হাতে ফিরতে দিতেন না। কখন উপহার তো কখন টাকা! মাঝে অনেক দিন যোগাযোগ ছিল না আমার বিদেশে থাকার সময়। ফিরে এসে মাত্র একবার দেখা হয়েছিল। আমার ছোট ভাইয়ার বিয়ের সময়! সেই শেষ দেখা। এইবার ওমরা থেকে ফিরে এসে শুনি দুলাভাই হার্ট এটাক করে মারা গেছেন। তার থেকেও যা খারাপ লেগেছে তা হচ্ছে আমার বোনের মেয়ে এইবার HSC পরীক্ষা দিচ্ছে। উনি মারা গেছেন দ্বিতীয় পরীক্ষার দিন। কেমন করে পরীক্ষা দিচ্ছে আমার ভাগ্নি আমি বলতে পারব না। দুলাভাইকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তার গ্রামের বাড়িতে। আমার বোন এবং তার বাকি সন্তানেরাও মা’র সাথে। আর আমার ভাগ্নিটা এক আত্মীয়র বাসায় থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে। কেন যেন নিজের HSC পরীক্ষার কথা মনে পরে গেল। সেই সময় আমাদের উপর দিয়েও গিয়েছিল এক বিশাল ঝড়! তবে এতটা ভয়ঙ্কর না!

আমি আগেও বলেছি আমার ব্লগ এ কোন দুঃখের বিষয় নিয়ে আমি লিখতে চাইনা! জীবনের ahhsome ব্যাপারগুলোই শুধু জায়গা পাবে আমার এই ছোট্ট দুনিয়ায়!  উপরের এই বিষয়গুলো লেখার পিছনে যা কারন এইবার তা বলি!

আমার প্রিয় কাজের বুয়া সুমনের মা ( যে অনেক বিপদে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল) হঠাৎ করে প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে যায়। সুমনের মা আমার প্রিয় তার একটা কারন, সে যখন ঘর মুছে, এর পর সেই ঘরের মেঝেতে আপনি আপনার চেহরা দেখতে পারবেন। এতটাই পরিষ্কার হয় তার মোছা! সে মাত্র এক মাসের মধ্যে আমার ওয়াশরুম কে পুরো প্রাসাদ বানিয়ে ফেলেছিল। আমি সব সময় তার কথা এই একমাত্র কারনে স্মরণ করি! কিন্তু ফাঁকিবাজির কারনে মা তাকে কাজ থেকে বিতারিত করেছিল গত বছর। তারপরও সে সম্পর্ক রেখেছিল। প্রতি ঈদে সুমনের মা’র জন্য থাকে লাল শাড়ি। প্রতিবারই শাড়ি নিয়ে সে পায়ে সালাম করে একাকার করে ফেলে। ঈদের দিন সুমন কে নিয়ে এসে বিশাল কান্ড হয় বাড়িতে! ঈদের দিন ওর সাজ দেখে আমিও না হেসে পারতাম না। সেই সুমনের মা’র কেন যেন গত কয়েক মাস ধরে খুব শরীর অসুস্থ্য! মা মাঝে মাঝে ওকে ফোন দিলে সে কথাই বলতে পারেনা। খুব কষ্ট হয় তার কথা বলতে। আস্তে আস্তে সব কাজ চলে গেছে তার অসুস্থ্যতার জন্য! এরই মধ্যে শুনলাম তাকে সমস্ত পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে এবং রিপোর্ট এ  তার throat cancer ধরা পরেছে ! তাকে নাকি অপারেশন করতে বলেছে ডাক্তার। তার জন্য দরকার কয়েক লক্ষ টাকা। শুনার পর থেকে আমার মনটা কেন যেন খুব অস্থির লাগছিল। একটা অল্প বয়সি মহিলা, ছোট ছোট বাচ্চার মা, তার ক্যান্সার? সে বাঁচবেনা? বিষয়টা আমার কিছুতেই হজম হয়না।

আমার মা এইদিকে সমানে তার জন্য সাহায্য তুলতে থাকে। যার যা সামর্থ্য সেই অনুযায়ী সবার কাছে টাকা চায় মা! যে আমাদের বিপদে এগিয়ে আসে সব সময় তাকে সাহায্য করা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করি। আমার সব খালারা যে যত পেরেছে দিয়েছে। মা নিজের কাছ থেকে দিয়েছে। তার জন্য আরো অনেক যাকাতের টাকা তোলার পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমরা চাই কোন ভাবেই সে যেন বিনা চিকিৎসায় না মারা যায়। চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ যেন তার হাতে থাকে। ওমরা থেকে আসার পর এমনিতেই আমি অনেক বেশি আবেগপ্রবন হয়ে গেছি। খুব ছোট ছোট বিষয় আমাকে নাড়া দিচ্ছে সেখানে এত বড় একটা ঘটনা আমাকে কতটা বেদনা দিচ্ছে একবার যদি কাওকে বোঝাতে পারতাম ! সুমনের মা গত সপ্তাহে এসেছিল আমার বাসায়! তার হাতে নিজের অর্থ তুলে দেই। পরিমান সামান্য হলেও নিজের টাকা দেবার যেই আনন্দ তা অন্য কিছুতে নেই। একজন সত্যিকারের দুঃখীর হাতে সামান্য কিছু অর্থ তুলে দেবার মধ্যে এত পরম সুখ তা আমি আগে কখনও বুঝিনি। আমি যখন আমার পার্স থেকে টাকা বের করে দিচ্ছি, কি অদ্ভুতভাবে মেয়েটা কাঁদল। চোখের পানি মুছতে মুছতে সে বলল, আপনারা আমার জন্য এত কিছু করলেন, কি করে আমি আপনাদের এই ঋন শোধ করব? কথা বলতে যেয়ে তার গলা ধরে আসল। আমি সাথে সাথে তাকে থামালাম। বললাম, রোজার দিনে তুমি অবশ্যই আসবে। ফোন তো আছেই, প্রয়োজনে ফোন করবে। আমরা তো করবই কিন্তু তোমার দরকার হলেও তুমি করবে!

আস্তে আস্তে লিফট এর দিকে চলে গেল। আমিও ঘরের দরজা বন্ধ করে কিছুক্ষন থম মেরে বসে থাকলাম। মানুষের জীবন দুই দিনের। কিন্তু আপনি যখন জানতে পারেন আপনি আসলেও দুই দিন পর মারা যাবেন, সেই জীবনটা তখন কেমন লাগে? হঠাৎ মৃত্যু আর আমি যদি জানতে পারি আমার মৃত্যু কাল অবধারিত, সেই মুহুর্তে কেমন লাগবে আমার? এই ভাবতে থাকি আমি সারাদিন। এমনও তো হতে পারে রোজার আগেই সুমনের মা মারা গেল? আবার এমনও তো হতে আগামী পাঁচ বছর সুমনের মা বেঁচে থাকল? জানিনা তার সাথে কি হবে কিন্তু টাকা হাতে নেবার পর তার চোখ দিয়ে যে টপ টপ করে পানি ঝরছিল তা দেখে আমি কেমন যেন এক ধরনের শান্তি অনুভব করি। তাতে আমি ভুলে যাই বংশের বেশ কিছু মৃত্যুর কথা! ফুপা মারা যাবার সময় আমি যেতে পারিনি। ভেবেছিলাম ফুপা তো আছেনই, মা’কে পাঠিয়েছিলাম। মা গিয়েছিল টাকা নিয়ে ফুপার কাছে। আমি মা’কে বলেছিলাম আরো কিছু টাকা নাও। চিকিৎসা কি ফুপু একা চালাতে পারবে?  মা দেখে আসল আর সেই রাতেই ফুপা মারা গেল হাসপাতালে। রাত দুটোর সময় মা ঘরে জানিয়ে গেল ফুপার মৃত্যুর কথা। সেই রাতে মা ঘুমোতে পারেনি। আর আমি? কিছুতেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি কেন ফুপাকে অবহেলা করে দেখতে গেলাম না? জীবনে কি আর কোন দিনও পাব ফুপাকে দেখতে? কেন গেলাম না আমি? এই ভেবেই অনেক দিন আমি পার করেছি। কিন্তু সুমনের মা’কে সাহায্য করার পর থেকে মনে মনে এক অনুকম্পা, না আমি তাকে শেষবারের মত দেখলাম, সাহায্যও করলাম। এখন সে মারা গেলেও আমার কোন দুঃখ থাকবে না!

আল্লাহ্‌ আমাকে অনেক দিয়েছেন। কথাটা আমি সব সময় স্মরণ করি এবং আল্লাহ কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আরো অনেকের মত গুচি, প্রাডা ব্যাগ নিয়ে আমি ঘুরে না বেড়াতে পারি, আমার বাসায় নতুন লেক্সাস গাড়ি নাও থাকতে পারে, গুলশানের লেইক এর পাড়ে আমার বিশাল মাপের রাজপ্রাসাদ নাও থাকতে পারে কিন্তু আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে। দিয়েছে একটা বড় মন, সুশিক্ষিত পরিবারে জন্ম, ধর্মের প্রতি মন আছে এমন বাবা মা, ঢাকা শহরের ভাল কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেকে সমাজের যোগ্য করে তোলার জন্য ভাগ্য! আল্লাহ আমাকে অনেকে দিয়েছে, দিয়েছে দুটো চোখ, দুটো করে হাত পা এমন মস্ত বড় একটা মন যা পৃথিবীর অর্থেক জিনিস কে ভালবাসতে জানে। তাই আমার এই অনেক কিছুর সামান্য যদি অন্যের কাজে আসে তাকে আমি কি বলব? সাহায্য? সহানুভূতি নাকি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ? এখন আপনি আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, কাজের মেয়েকে কেন আমি ভালবাসতে যাব? এর উত্তর হবে একটাই, “ভালবাসা মন থেকে আসে, কারো শরীরের গন্ধ শুঁকে না” ! অর্থ দিয়ে যদি পৃথিবী জয় করা যেত তাহলে আমাকেই জয় করে নিত এই আস্ত পৃথিবী!

মাঝে মাঝে আপনিও সাহায্য করুন! অর্থ দিয়ে, পুরনো কাপড় দিয়ে, এমনকি আপনার ফেলে দেয়া এক আস্তরণও কাজে লাগতে পারে কোন দারিদ্রপীড়িত শিশুর। বিশ্বাস করুন, কাওকে দিলে আপনার কমবে না, বাড়বে। আমার বাবা মা সারাক্ষন এই কথা বলে। এই কারনেই হয়ত অনেক অভাবেও আমরা অভাব কি বুঝতে পারিনা। কেও নিশ্চয় দোয়া করেছিল বলেই আজ এই অবস্থানে আসতে পেরেছি! হতে পারে কারো চোখের পানি আমার মঙ্গল নিয়ে আসে?

অনেক বড় একটা পোস্ট! বুঝতে পারলাম না আমার লেখার বিষয়টা কি! প্রথমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলাম, পরে সুখ! জানিনা পোস্ট এর টাইটেল এর সাথে লেখার কোন মিল আছে কিনা! যদি মিল খুঁজে পান আমাকে অবশ্যই জানাবেন। Till then সবাই খুব ভাল থাকুন এবং আপনার আশে পাশের গরীবদের মনটা বড় করে দান করুন। লোক দেখানো দান এবং সত্যিকার অর্থে সাহায্য করার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে! কথাটা সব সময় মনে রেখে দান করবেন।

Allah is near :)

অতর্কিত পরিবর্তন … আমি স্তব্ধ !

Posted by নিঃশব্দতার ছন্দ on এপ্রিল 24, 2012
Posted in: জীবন যখন তেজপাতা, সে এক বিস্ময়!. Tagged: আমি, পরিবর্তন, ব্যাধি. 4 comments

আমার কিছু একটা হয়েছে। না টানা তিনের হরতালের জন্য না ! হরতাল হচ্ছে হরতালের নিয়মে এখানে আমার কোন লাভ বা লোকসান নেই। না আমি রাজনীতি করি, না আমার ব্যাবসা আছে যে হরতালের দোষগুন নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে। আমি অতি সাধারন মানুষ যে নিয়মমাফিক চলে কিন্তু মাঝে মাঝে তার কি যেন হয় সে সকল নিয়মের বাহিরে যেয়ে নির্বোধ এর মত  আচরণ  করে। গত কয়েক মাস ধরে আমি নিজের মধ্যে এই সব পরিবর্তন দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমি কি বদলে যাচ্ছি নাকি কিছু একটা আমাকে বদলে যেতে বাধ্য করছে? আর সেই কিছু একটা যদি আমাকে জোর করেও থাকে তাহলে সেই কিছু একটা কি? কেন বের করতে পারছিনা আমি আমার নিজের পরিবর্তনের মূল কারণ? আজব !

যেই কাজগুলো আমি আগে কোনদিন করতাম না সেই কাজগুলো এখন প্রতিদিন করছি। তাও আবার অতি মর্যাদা দিয়ে করছি ! করছি আর ভাবছি, মন্দ না! যত নিজেকে বলি আমি তো এই কাজগুলো আগে কোন দিন করিনি তাহলে এখন কেন করছি, তত নিজের কাছে মজা লাগছে! আমি সত্যি কোন কিনারা খুজে পাচ্ছিনা !!

একটা লিস্ট বানিয়েছি…

  • নেইল পলিশঃ আমি শেষ কবে নেইল পলিশ দিয়েছিলাম আমার মনে পরে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার পর আমি কবে নেইল পলিশ দিয়েছিলাম কিছুতেই মনে করতে পারছিনা।  নেইল পলিশ জিনিসটা আমার কাছে চরম জঘন্য জিনিস বলে মনে হত। কি হাতের মধ্যে রঙ লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো! এখন আমি দোকানে গেলেই সবার আগে নেইল পলিশ কিনি। শুধু কিনিনা, পাগলের মত কিনি। এমনও হচ্ছে যে একই রঙ এর নেইল পলিশ আমার দুই/তিনটা হয়ে গেছে। বাসায় এসে দেখি একই রঙ! একটু খারাপ লাগে না আমার একই রঙ হলে। মনে হয় ভালই হয়েছে, একটা শেষ হলে আরেকটা আছে!  আমি কিনেই যাচ্ছি, কিছুতেই নিজেকে শাসন করতে পারছিনা !!
  • সাজগোজঃ আমি প্রচন্ড সজ্ঞান কাপড় এবং সাজগোজ নিয়ে। আমার চোখ থেকে পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত সব কিছুকে আমি রাখি একদম অলঙ্কৃত। কিন্তু কিছু একটা হয়েছে যার কারনে আমার এখন সাজতে ভাললাগে না! যখনই মনে হয়ে বাসায় ফিরে আমাকে মুখ/চোখ সব পরিষ্কার করতে হবে তখনই আর সাজতে ভাললাগে না। আবার যেইদিন না সেজে বের হই সেই মন মেজাজ খুব খিঁট খিঁটে হয়ে থাকে। কাওকে ভাললাগে না, নিজেকেও না। কিম্ভুতকিমার একটা ব্যাপার হচ্ছে আমার সাথে।
  • আয়ানায় আমিঃ ঘন ঘন নিজেকে আয়নায় দেখা আবার নতুন এক অসুখে পরিনত হয়েছে। হতে পারে বিদেশ ভ্রমন শেষে আমি কিছুটা হলেও গায়ের রঙ কালো বানিয়ে নিয়ে এসেছি। কিন্তু তাই বলে এত ঘন ঘন? বিরতিহীন ভাবে আমি নিজেকে দেখি আর মনে মনে ভাবি কবে আমি আমার আগের বুনট ফিরে পাব?অথচ ঢাকা শহরে কবে আমি সূর্যের তাপ ছাড়া চলা ফেরা করেছি? ছাতাও তো ব্যাবহার করতাম না আমি!  যখন ক্লাস করতাম তখন কি সারাদিন টোটো করে আমি সূর্যের নিচে ঘুরে বেড়াতাম না? তাহলে এই ঢং আমার কিভাবে আসল? পুরা metro-sexual দের মত আমি একটু পর পর আয়নায় নিজেকে দেখি! কি Disgusting !!
  • ihpone 4s: আমি সারাজীবন তাদের দেখতে পারতাম না যারা apple এর পন্য নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। তাদের দলেই আমার বেশির ভাগ বন্ধুরা ছিল। কারো হাতে iphone বা ipad দেখলে আমার মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হত। মনে হত এত লোক দেখানোর কি দরকার। অথচ সেই আমি দুবাই যেয়ে একটা iphone কিনে ফেলেছি! তাও আবার অনেকটা ঘটা করে! যেই আমি ফোন কোথায় রেখেছি তা মনে করতে করতে সারা দিন চলে যেত, এমনকি ব্যাগের মধ্যে ফোন বাঁজলেও আমি শুনতাম না, সেই আমি এখন ২৪/৭ iphone হাতে নিয়ে বসে থাকি। শুধু তাই না, সাদা রঙ এর এই ফোন দেখলেই আমি ভয়ঙ্কর প্রশান্তি অনুভব করি। এখন এমন হয়েছে যে কেও ফোন দেবার সাথে সাথে আমি তা গ্রহন করি। মাঝে মাঝে রিং বাজার আগেই ঘরে বসে থাকি! শুধু তাই না, সারাক্ষন মানুষজন কে imessage পাঠাই! যেন আমি iphone তো না, সিন্দুকের চাবী পেয়েছি! যাহাই ঘটুক না কেন, iphone দিয়ে আমি সমানে ব্রাউজিং থেকে শুরু করে চ্যাটিং, সব চালাচ্ছি এক সাথে! বন্ধুরাও খুশি, আমাকে যখন তখন ফোনে পাচ্ছে। আর কেও অভিযোগ করছে না আমাকে দেরি করে পাওয়ার জন্য! এখন কয়েক মাস apple এর বিনামূল্যে প্রচার চলবে আমার মাধ্যমে। সবাইকে এখন আমি iphone কিনতে বলব! বলেই ফেললাম… তাই না?
  • জিমে অলসতাঃ আমি কয়েকদিন ধরে পর্যবেক্ষন করলাম আমি একদম মনযোগ দিয়ে ব্যায়াম করছিনা। কোন দিক থেকেই আমি আমার হারানো একাগ্রতা আনতে পারছিনা। প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমার মনে হয় আমি কেন জিমে যাচ্ছি! কেন আমি সারাদিন বাসায় থাকছিনা? কেন আমি এত কষ্ট করছি?!  অথচ জিমে গেলে আমার শরীর কতটা সুস্থ্য থাকে এবং সবার সাথে ভয়ঙ্কর ভাল সময় কাটে তা আমি কিভাবে বোঝাব? তারপরও প্রতিদিন সকালে উঠে নিজের মনের সাথে আমার এক দফা চূড়ান্ত লড়াই হয়। আমি এই সংগ্রাম করতে করতে অনেকটা ক্লান্ত। অথচ একটা সময় ছিল যখন আমি কোন কারনে একদিন জিমে যেতে না পারলে কান্না পেত! সারাদিন আমি গাল ফুলিয়ে বসে থাকতাম কেন জিমে যেতে পারছিনা ভেবে! যখন আমার thigh injury হল তখন তো মনে হল আমার কঠিন কোন অসুখ হয়েছে!! আর এখন জিমে গেলে আমি মানুষজনের খুঁত ধরি, ট্রেডমিলে ময়লা দেখলে সোজা মালিকের কাছে যেয়ে অভিযোগ করি! whats wrong with me damn it!
  • টুইটারঃ সময় কাটানোর ভাল একটা পথ পেয়েছি আমি! রাত দিন টুইটার এ বসে থাকি কোন কারন ছাড়া! একটার পর একটা টুইট আমি পোস্ট করতেই থাকি। আমার বান্ধবীরাও দেখি অতি উৎসাহের সাথে আমার সেই সব টুইট এর জবাব দেয়! এমনকি আবুল / বকুল সবাই আমাকে follow করে। মাঝে মাঝে যখন রাগ উঠে তখন সবগুলোকে ব্লক করি। আবার দেখি মামুন সুমনেরা follow করে বসে থাকে। আমি বুঝিনা, যোগাযোগ না করতে চাইলে আমাকে follow কর কেন চুপ করে? শুধু শুধু !!
  • ছবিঃ আমি  গাছ, পাতা, আকাশ, চায়ের কাপ, ঘোড়ার ডিম এই সবের ছবি তুলে টুইটার, ফেইসবুক, পাথ এবং ইন্সটাগ্র্যাম এ পোস্ট করছি। মোবাইলের সব টাকা এখন আমার জিপি ইন্টারনেট এর পিছনে চলে যাচ্ছে! এক সাথে এতগুলো জায়গায় ছবি আপলোড করলে কত গিগাবাইট আমার প্রতিমাসে লাগছে একবার হিসাব করে নিয়েন! তারপরও আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারছিনা ঢাকার ট্র্যাফিক জ্যামের মত। আজকেই আমি পাথ এ একাউন্ট খুললাম! খুলেই প্রেমে পরে গেলাম!
  • ক্যামেরাঃ আমি একটা ক্যামেরা কিনেছি নতুন অথচ আমার ক্যামেরা দেখেই কেমন গা জ্বালা করছে। এক সময় ছবি তোলার জন্য আমার মনটা কেমন ব্যাকুল হয়ে থাকত । বিশেষ করে যখন shuvz khan photography টাইপ পেইজ দেখতাম ! আর  এখন আমার ঘরে, আমার চোখের সামনে প্রফেসনাল ক্যামেরা অথচ আমার ছবি তুলতে ইচ্ছা করে না!
  • সারাক্ষন ফেইসবুকঃ আমি আগে সপ্তাহে একটা কি দুইটা স্ট্যাটাস লিখে ফেইসবুকে মানুষ কে আপডেট জানাতাম! কিন্তু এখন আমি কোথায় যাচ্ছি থেকে শুরু করে, কি খাচ্ছি এবং কার সাথে খাচ্ছি সব জানাই! একদম নতুন ফেইসবুক ইউজার এর মত! নতুন নতুন একাউন্ট খুললে যেমন মানুষ জন বোকার মত বসে থাকে আমার অবস্থা হয়েছে ঠিক সেই রকম! আমার ছবি এবং স্ট্যাটাসের জন্য খুব তাড়াতাড়ি সবাই আমাকে ডিলিট করা শুরু করবে। বোঝা হয়ে গেছে আমার! কিন্তু কিছু মানুষজনও পাগল হয়ে গেছে আমার মত। তারাও এসে দেখি কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে লাইক দিয়ে বসে থাকে! হুমমম…।
  • ওয়েডিং পেইজঃ বিয়ের যত পেইজ আছে ফেইসবুকে আমি সবগুলোতে লাইক দিয়ে বসে আছি। আমি বসে বসে বিয়ের ছবি দেখি আর ভাবি, মানুষজনের এত পয়সা অথচ আমাদের দেশে নাকি সবাই গরীব? কোথায় এত টাকা পাচ্ছে সবাই? হায়রে বিয়ের সাজ! আবার কিছু কিছু ছবি দেখে মনে হচ্ছে, আমি এইভাবেই সাজব বিয়েতে। একদম কুৎসিত কল্পনা! সারা জীবন আমি মনে মনে ভেবে রেখেছি আমার বিয়ের সব কিছু হবে একদম আলাদা আর এখন অন্যেরটা দেখে আমার নকল করতে ইচ্ছা করছে। ম্যাট্রিক/ইন্টার পরীক্ষায় নকল করলাম না আর এখন মানুষজনের বিয়ের ছবি দেখে ধারনাগুলো নকল করব? shame on me! I should stop visiting those pages নাহলে আমি খুব জলদি সব চিন্তাশক্তি নষ্ট করে ফেলব। I better get a life!
  • হিন্দি সিনেমাঃ আমার নেশার মত হয়ে গেছে!! নিশ্চয় আপনি ইতিমধ্যে টের পেয়ে গেছেন? যখন যেই চলচিত্র মুক্তি পাচ্ছে, আমি সাথে সাথে সেটা দেখে ফেলছি। এর জন্য অবশ্য আমাদের ক্যাবেল অপারেটর দায়ী! এই বছর আমি মোটামোটি সব চলচিত্রই দেখেছি কিছু নিম্নমানের সিনেমা ছাড়া। আর যেগুলো দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি সেগুলো নিয়ে আবার ব্লগ এও লিখেছি! wow me!! যেই আমাকে টেনে বেঁধে কেও সিনেমা দেখাতে পারত না সেই আমি প্রতি রাতে দুটো আপেল নিয়ে বসে গোগ্রাসে সিনেমা দেখে আবার তা নিয়ে বিবৃতি দেই! কি অদ্ভুত দিন কাল যাচ্ছে আমার। আমার মনে হয় মাস্টার্স করা উচিত। তাহলে অন্তত সিনেমা থেকে রেহাই পাব!
  • সংবাদঃ আমি বহু বছর টেলিভিশনের সংবাদ (বাংলা / ইংলিশ) দেখিনি। দেখিনি কারন আমার ভাল লাগে না! একই মানুষ, একই পরিবেশ এবং একই বিষয় নিয়ে টিভিতে নতুন কাহিনি দেখতে বা শুনতে আমার অসহ্য লাগত। আর বিজ্ঞাপনের কথা কি কিছু বলব? বাংলালিঙ্কের কিছু বিজ্ঞাপন দেখলেই আমার মাইগ্রেন গুরতর পর্যায়ে পৌছে যেত। শুধু যেত না, এখনও যায়! এর থেকে ইভা রহমানের শাড়ি দেখা ভাল! আমার যে কি হয়েছে, আমি ইদানিং খবর দেখি। এই যেমন আজকে, টানা তিন দিনের হরতালের খবরটা দেখে সবাইকে জানালাম। সবাই আমাকে একটাই প্রশ্ন করল, ” তুমি সুস্থ্য আছ? তোমার কি ডাক্তার দরকার? সাক্ষাতের ব্যাবস্থা করে দেব?” আমি প্রথমে একটু অস্বস্তিতে পরলেও পরে মনে হল, ” আহ্‌ কি উদ্বেগ আমার সখাদের… আমাকে নিয়ে!”
  • ব্লগিং অসহ্য লাগছেঃ আমার নিজের কাছেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে কতটা জ্বালাতনকর লেগেছিল আমার ওমরার পোস্টটা লিখতে। প্রায় সাতদিন ধরে আমি বসে বসে ভাবছি আমাকে ব্লগ আপডেট করতে হবে অথচ আমি কিছুতেই লেখার ব্যাপারে মনোনিবেশ করতে পারছিলাম না। আমার মনে হচ্ছে আমার লেখা দরকার কারন কিছু না লিখলে আমার অশান্তি লাগে অথচ আমি লিখতে বসছি কিছু ইচ্ছা করছে না। কি অদ্ভুত একটা ব্যাপার। আবার মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে আমার লেখার এত বিষয় এক সাথে জমে গেছে যে কোনটা ছেড়ে কোনটা লিখব তা ভেবেই দিন পার হয়ে যাচ্ছে।
  • খাই খাই স্বভাবঃ আমি জানিনা কেন নতুন করে আমার খাবারের প্রতি ভয়ঙ্করভাবে আগ্রহ বেড়েছে। যেখানে যেই খাবার দেখছি সেখানেই আক্রমন করছি। আহার্য পদার্থের উপর আমার এই আসক্তি খুব দ্রুত পালটে ফেলতে হবে। তার জন্য আমার দরকার বাসা থেকে ঘন ঘন বের হওয়া যা হরতাল উঠে যাবার সাথে সাথে শুরু হবে এবং আরো প্রয়োজন নিজেকে প্রতি মুহুর্তে কর্মব্যাস্ত রাখা না হলে আমার এত সাধনার শরীরচর্চা সব জলে যাবে! আর তা আমি কোন ভাবেই হাসি মুখে মেনে নিতে পারব না।

উপরে আমি যা যা এতক্ষন ধরে লিখেছি তার একটাও আমার সাথে যায়না। না আমি এমন ছিলাম আর না আমি কখন এমন হতে চেয়েছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে আমার মধ্যে এই পরিবর্তনগুলো দেখে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছে আমার কোন মানসিক সমস্যা হয়েছে কিনা! বিশ্বাস করুন আমার কোন সমস্যায়ই হয়নি কিন্তু কেন যেন বদলে যাচ্ছি আমি। আমি জানিনা এই বদলে যাবার পিছনে কোন ভাল দিক লুকিয়ে আছে কিনা। যদি থেকে থাকে তাহলে আমার খুব দ্রুত একটা ipod কেনা দরকার ( দেখেছেন, কেমন অস্বস্তিতে ফেলছে আমাকে জীবন) !! যতদিন আমি ipod এ গান না শুনব ততদিন আমার মন কেমন কেমন  করবে।

ব্যাধি, বড়ই ভয়ঙ্কর ব্যাধি! উফফ!!

I believe in Allah and peace!

ওমরা এবং আমার মনের নিশ্চলতা…

Posted by নিঃশব্দতার ছন্দ on এপ্রিল 22, 2012
Posted in: আমার একবেলা ছুটি, আমার মত কেও..., কাছের মানুষেরা..., জ্যোৎস্নাক্রান্ত ভাললাগা, প্রবাসে সুখলতা, সে এক বিস্ময়!. Tagged: ওমরা, কাবা ঘর, তাওয়াফ, মক্কা, মদিনা, মাতাফ, সাই, সাফা মারওয়া, হজ্জ. 3 comments

আমি জীবনেও ভাবিনি কোন দিন মক্কা/মদিনায় যাব। আমি কোন দিনও চিন্তা করিনি একদিন খুব কাছে থেকে আল্লাহ্‌র ঘর দেখব। দেখে আমার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পরবে। আমি অবাক দৃষ্টিতে সেই ঘরের দিকে তাকিয়ে ভাবব, “আল্লাহ্‌ তুমি নিয়ে এসেছ তোমার ঘরে আমাকে, তোমার মেহমান বানিয়ে… এইবার আমার সব পাপ তুমি ক্ষমা কর। মাফ করে দাও আমাকে, সঠিক পথ দেখাও, আল্লাহ্‌ আমার ইমান কে তুমি আরো মজবুত কর।”

গত বাইশে মার্চ আমি জীবনে প্রথমবারের মত মদিনা শহরে প্রবেশ করি। এয়ারপোর্ট এ ইমিগ্রেশন নিয়ে বিশাল ঝামেলা হয়। দুই জন মাত্র ইমিগ্রেশন অফিসার আর সেখানে শত শত মানুষের ভিড়ে নিজেকে খুব বোকা বোকা লাগে। এয়ারপোর্ট এর ঝামেলা শেষ করে চলে আসি হোটেল এ। হোটেলে আসার সময় যখন মসজিদ আল নাবায়ির কিছু অংশ দেখতে পেলাম তখন বুকের মধ্যে কেমন যেন একটা হাহাকার অনুভব করলাল। সত্যি কথা বলতে গেলে এর পর থেকে আমি কেন যেন অনেকটা অনুভূতিশূন্য হয়ে যাই। আমি কিছুই বোধ করছিলাম না। সব কিছুই আমার কাছে স্বপ্নের মত লাগছিল। নিজের কাছেই বিশ্বাস হচ্ছিল না আমি কিছুক্ষনের মধ্যে আমাদের প্রিয় নবীর সমাধীর কাছে চলে যাব। সেই নবী যাকে আমি জন্মের পর থেকে মন প্রান আত্মা সমস্ত কিছু দিয়ে ভালবাসি, যাকে অনুসরন করি। ভাবতেই আমার মনের মধ্যে একধরনের কম্পন হচ্ছিল। গভীর রাতে হোটেলে যেয়ে ঘুমিয়ে যাই কারন আমাদের ভোর হলেই মসজিদে চলে যেতে হবে। আর তেইশে মার্চ আমার জীবনে নিয়ে আসে এক নতুন অধ্যায়! এমন এক অধ্যায় যা আমার জীবনে সব সময় স্বর্ণসমৃদ্ধ হয়ে থাকবে।

প্রথম জামাতঃ আমার জীবনের প্রথম জামাত মসজিদ আল নাবায়িতে। যে মসজিদ বানিয়েছিলেন নবীজি। এত বড় কোন মসজিদে আমি আগে  কখন জামাত পড়িনি। আমি জানিওনা কিভাবে এত মানুষের মাঝে জামাত পড়তে হয়। এই জামাতগুলো আমাদের দেশের মসজিদের মত না। জুম্মার দিন, প্রচন্ড ভিড়। ভিড়ের মাঝেই সবাই এক সাড়িতে বসে নামাজ পড়ে। কত দেশের মানুষ সেখানে। কত রকম জাতি। অথচ সবার গন্তব্য একটাই! আল্লাহ্‌কে পাওয়া। আল্লাহ্‌ দরবারে নিজের সকল পাপের জন্য ক্ষমা চাওয়া। কেও কাওকে চিনে না জানেনা, অথচ সবাই সবার জন্য!  প্রথমবার জামাত পড়ার পর মনে হল, আমার কিছুটা হলেও পাপ মুক্ত হয়েছে। এর পর আসে নবীজির কবর জিয়ারাহ এর পালা। রিয়াদুল জান্নাহ তে প্রবেশ করার সময় অনেক সমস্যায় পরতে হয়েছে। ধাক্কাধাক্কি এবং প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে একবার মনে হল বসে কাঁদি! ব্যাথাও পেয়েছি পায়ে অনেক। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। এইভাবে চলে প্রতিদিন। হাজার হাজার মানুষ এইভাবেই আঘাত পেয়ে শান্তি পাচ্ছে। সেখানে কিছু রাকাত নামাজ পড়লাম। আল্লাহ্‌র কাছে অনেক কিছু দোয়ার মাধ্যমে চাইলাম। আমার এখনও চোখে ভাসে মসজিদের ছাতা। দিনের বেলা খুলে যায়, রাতের আঁধারে সবগুলো বন্ধ হয়ে যায়। কি সুন্দর সেই পরিবেশ!

কুবা এবং আল কিবলাতাইন মসজিদঃ  মদিনাতে আছে বেশ কিছু  প্রসিদ্ধ মসজিদ আছে। মোটামোটি সবগুলো দেখেছি। নামাজও পড়ার সুজোগ পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ্‌!  কুবা মসজিদ আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। ইচ্ছে ছিল আরো কিছুক্ষন নামাজ পরব সেখানে কিন্তু সময়ের এত অভাব ছিল যে আমরা পারিনি। কুবা মসজিদ এ প্রবেশ করে নামাজ এবং কিছু নফল নামাজ পড়ি। কুবা মসজিদে দুই রাকাত নামাজ পড়লে তা এক ওমরা হজ্জ এর সমান সোওয়াব পাওয়া যায়। কুবা মসজিদের পরিবেশ এত বেশি শান্তিপ্রবন ছিল যে সেখান থেকে আর আসতে ইচ্ছা করছিল না। মনে হচ্ছিল এখানেই যদি থেকে যেতে পারতাম সারাটা জীবন। মানুষ কম, যে যার নিজের মত নামাজ পড়ছিল আর তার থেকেও বড় কথা, মসজিদে প্রবেশের সাথে সাথে এমন যেন এক প্রশান্তির হাওয়া অনুভব করেছিলাম। এমন পরিবেশ কম মসজিদেই আছে।  সত্যি কথা বলতে আমাদের পরিবেশ আমাদের ধার্মিক হতে অনেকটা সাহায্য করে। যখন সবাই মিলে দল মিলে নামাজ পড়ে, যখন সবাই আজান দেবার সাথে সাথে একসাথে সমবেত হয় সেখানে বাস করলে মানুষ প্রকৃত অর্থে ধর্মের প্রতি মনযোগী হতে বাধ্য! এমনকি কিবলাতাইন মসজিদে যখন মাগরিবের নামাজ পড়ছিলাম, তখনও আমার তাই মনে হয়েছিল। আরো গিয়েছিলাম উহুদ এর পাহাড় দেখতে। সেখানে সমাধি রয়েছে ৭০জন সাহাবীর। সেখানেও দোয়া করেছি কিছুক্ষন আল্লাহ্‌র দরবারে হাত তুলে। ফিরে আসার সময় মনে হচ্ছিল, মদিনায় কেন আমার জন্ম হল না?

মক্কা, আল্লাহ্‌র ঘরঃ আরেকবার আমি আবেগআপ্লুত হয়ে যাই মক্কা শহরে প্রবেশের সময়। জম জম টাওয়ার এর ঘড়িটা দেখার সাথে সাথে বুকের ভেতরাটা কেমন যেন মোচড় দিল। যেই কাবা ঘর জায়নামাজে দেখি, যেই কাবা ঘরকে চিন্তা করে নামাজ পড়ি, যেই কাবা ঘরকে আমি এত দেখি টেলিভিশন এ সেই কাবা ঘরকে নিজের চোখের সামনে দেখে আরেকবার নিরাবেগ হয়ে যাই। মাতাফ এ প্রবেশ এর সাথে সাথে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি আল্লাহ্‌র ঘরের দিকে। মদিনা থেকে মক্কা গিয়েছিলাম গাড়িতে। প্রায় ছয় ঘন্টার যাত্রা শেষ করে মক্কা শহরে এসে খুঁজতে থাকি হোটেল। কিছু হোটেল ভেঙ্গে ফেলার কারনে অনেক সমস্যায় পরতে হয় আমাদের। প্রায় এক ঘন্টা  দাঁড়িয়ে থেকে হোটে্লের ব্যাবস্থা করি। এর পরেই হোটেলে যেয়ে প্রস্তুতি নেই ওমরার। রাত তখন প্রায় এগারটা। যাবার সময় তিন জন স্যান্ডউইচ খেলাম রাস্তার দোকানগুলো থেকে। এর পরেই চলে যাই হারাম শরিফ এ। মাতাফে নেমে তাওয়াফ করি। এর পর চলে যাই সাই করতে। অনেকটা চ্যাপ্টা হয়ে যাই তাওয়ফ করার সময় কিন্তু কেন যেন মনের মধ্যে ছিল প্রচন্ড আনন্দ। আমি ওমরা হজ্জ করছি, তাও আবার জীবনে প্রথমবার। এই আনন্দ কেমন আনন্দতা এখানে লিখে বোঝানো যাবে না। সাফা মারওয়া পাহাড়ে হাঁটার সময় প্রথম তিন দফা কষ্ট হয়নি কিন্তু এর পর থেকে আর কিছুতেই পা আগাচ্ছিল না। হয়ত অনেক রাত অথবা দিনের বেলার ক্লান্তি সব মিলিয়ে শরীর পারছিল না আর নিতে। বেশ কয়েকবার মাথায় এবং পায়ে জম জমের পানি দেই। নিজেকে অনেক ভাবে বোঝাই, আমি পৃথিবীর সব চেয়ে সর্বোত্তম স্থানে আছি। এখানে যদি আমি মারাও যাই, আমার কোন আফসোস থাকবে না। এই ভাবতে ভাবতে আমি আবারও শুরু করি হাঁটা। এইভাবে সাই করা শেষ করে বাবা গেল চুল কেঁটে ফেলতে। আমরা হোটেলে এসে চুল কাটলাম। এইভাবেই শেষ করলাম ওমরা। এর পর প্রায় প্রতিদিনই আমি তাওয়াফ করেছি। ফযরের ওয়াক্ত এর নামাজ শেষ করেই আমরা নেমে যেতাম তাওয়ায়ফ করতে। যখনই সুজোগ পেয়েছি তখনই তাওয়াফ করেছি! সাথে নামাজ তো আছেই। ইমাম সাহেবের গলায় কি আছে আমি জানিনা, আমি ঢাকায় ফেরার পরও সেই কন্ঠস্বর স্বষ্ট শুনতে পাই। কি মিষ্টি সেই আজান, কি অদ্ভুত মায়া সেই স্বরে। জীবনটাই সম্পূর্ন মনে হয়!  আমি আবারও যাবে মক্কায়, যাব মাতাফে … আল্লাহ্‌র ঘরের কাছে আবারও আমি মাঝ রাতে বসে থাকব আর দোয়া করব জীবনের সব ভুল ত্রুটিকে ক্ষমা করে দেবার দোয়া…

কোন রকম সম্পাদনা  ছাড়া ছবিটি পোস্ট করলাম। তুলেছিলাম হারাম শরিফের ফাহদ গেইট দিয়ে প্রবেশ করে দো’তালা থেকে।

ফিরে আসাঃ মদিনা থেকে ফেরার দিন যেমন দুই চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল ঝরেছিল, বার বার যেমন নবীজির মসজিদের দিকে চোখ গিয়েছিল, তেমন মক্কা থেকে জেদ্দা যাবার সময়ও মনে হয়েছে, কেন আমি আরও কিছু দিন থাকতে পারলাম না। কি আছে হারাম শরিফে? জানিনা কিসের এত মায়া, জানিনা কিসের এত ব্যাথা আমি হৃদয়ে অনুভব করেছি। মনে হচ্ছিল আমার চোখের সামনে থেকে আমার সব চেয়ে প্রিয় কিছু কেও কেড়ে নিচ্ছে অথচ আমি মুখ খুলে কাওকে কিছু বলতে পারছিনা, বলতে পারছিনা নিও না, নিও না!! বিদায় তাওয়াফ এর পর আর হারাম শরিফে প্রবেশ করা যায়না। শেষ বার যখন হারাম শরিফ থেকে বের হচ্ছি তখন অপলক দৃষ্টিতে আমি চেয়ে ছিলাম আল্লাহ্‌র ঘরের দিকে। কি অদ্ভুত সেই কালো কাপড়ে মোড়ানো ঘরটা! একজন ভদ্রলোক অনেক শব্দ করে কাঁদছিল, তার দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে ছিলাম। আমিও যদি তার মত শব্দ করে কাঁদতে পারতাম !! কেমন যেন একটা মায়া জড়িয়ে গিয়েছিল হারাম শরিফ এর সাথে। পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা তারপরো ছুটে চলা আজানের সাথে সাথে। হাঁটুর ব্যাথায় ঠিক করে নামাজ পড়তে পারছিলাম না তারপরও মনে হচ্ছিল, জীবনে এর থেকে সর্বোৎকৃষ্ট সময় আর হতে পারে। একদিকে আল্লাহ্‌র ঘর, অন্যদিকে জীবনের সব যন্ত্রনা ভুলে যেয়ে এক শান্তির চতুর্পাশ্ব!

এখন শুধু অপেক্ষা হজ্জ এর। এই বছর না হলে আগামী বছর ইচ্ছা আছে হজ্জ করবার। জীবনে একবার হজ্জ ফরজ, আমি মনে করি বয়স থাকতেই আমার হজ্জ করে ফেলা উচিত। যত বয়স বাড়বে, হজ্জ এর জন্য শরীর তত বেশি বিশ্বাসঘাতকতা করবে। এখন শরীর অনেক ক্লান্তি বহন করতে পারে কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পর শরীর আর নিতে পারবে না। তখন হাজার টাকা পয়সা থাকলেও যেতে পারবে না নিজের শরীরের জন্য। এখন সুস্থ্য আছি, এই পুন্যের কাজটা করে ফেলি।

আমি আবারও আসব ডেসার্ট সাফারি এবং আমার প্রিয় কিছু স্মৃতির সম্ভার নিয়ে। Till then সবাই খুব হাসি খুশি থাকুন এবং প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। গরম যেইভাবে পরেছে তাতে শরীরে পানির ঘাটতি হয়ে যাবে। যখনই মনে পরবে, পানি পান করবেন। :D

পিছু হাঁটা…

Posted by নিঃশব্দতার ছন্দ on এপ্রিল 15, 2012
Posted in: আমার একবেলা ছুটি, আমার গোলপাতার ঘর ঢাকার গলিতে, কাঁচের বাক্সে ঘড়ির কাঁটা, জীবনে যেমনটি হয়, সে এক বিস্ময়!. Tagged: ওমরা, দেশ বিদেশ, মক্কা, মদিনা. 2 comments

There is no place like your home !!

খুব আনন্দের সাথে ফিরে এসেছি দেশে। দেশের ফেরার এক সপ্তাহ আগে থেকেই কেন যেন মন খুব বিচলিত ছিল। বিশেষ করে যখন বন্ধুদের সাথে ফেইসবুক বা টুটারে যোগাযোগ হচ্ছিল। সবার কাছ থেকে দেশের কথা, আবহাওয়ার কথা তার উপর আবার ভূমিকম্পের কথা শুনে কেমন যেনে এক ধরনের গোলমাল হয়ে যাচ্ছিল। আমি এত সুন্দর সব জায়গা ঘুরে দেখার পরও মনে হচ্ছিল কবে দেশে যাব, কবে নিজের বাড়ি ফিরব, কবে নিজের পালঙ্কে ঘুমাব?! সত্যি কথা বলতে গেলে এত লম্বা সময়ের জন্য বিদেশে পরে থাকা আমার কাছে খুবই বিরক্তিকর। প্রায় এক মাসের মত সময় ধরে, প্রতিদিন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দৌড়ে বেড়িয়ে আমি যে কি পরিমানের ক্লান্ত তা ঘরে এসে হারে হারে টের পাচ্ছি। এক মুহুর্তের জন্যও আমি কোন কাজ করতে পারছিনা। এত অবসন্ন লাগছে সব কিছু! আবার আগের মত যান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত হতে জানিনা কতটা সময় লাগবে! কত কাজ বাকি আছে।

যাই হোক, আমি যে সুস্থ্য শরীরে এবং স্বপরিবারে হাসি মুখে দেশে ফিরে আসতে পেরেছি কোন সমস্যা ছাড়া এর থেকে বেশি আমার আর কি চাই!

ওমরা করেছি, বেশ কিছু দেশে ঘুরেছি এবং সাথে যোগ হয়েছি কিছু নতুন জিনিস। খুব দ্রুত আমার ওমরার কিছু বিস্ময়কর স্মৃতি নিয়ে নতুন ব্লগ লিখব। Till then সবাই মনের দুয়ার খুলে কালবৈশাখী উপভোগ করুন। বৈশাখ মাস আমার কোন দিনই প্রিয় মাসের মধ্যে পরে না। বৈশাখ মাস আসলেই মনে হয় এই শুরু হল শরীর দিয়ে বেয়ে বেয়ে ঘাম ঝরা, অসহ্য গরম এবং অসহয়নীয় আবহাওয়া। ঝড় হলে তাও একটু মনের সান্তনা থাকে। যাই হোক, আম খাবার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলুন এবং জীবনকে নতুন করে সাজান।

উপরে আল্লাহ্‌ আছেন, একদিন তার কাছেই ফিরে যেতে হবে সকল মানবকে।

তিন সপ্তাহের ছুটি…

Posted by নিঃশব্দতার ছন্দ on মার্চ 21, 2012
Posted in: অবসরে রসগোল্লা..., আমার একবেলা ছুটি, জ্যোৎস্নাক্রান্ত ভাললাগা, প্রবাসে সুখলতা. Tagged: ছুটি, ভ্রমন. 2 comments

দীর্ঘ  অপেক্ষার পালা শেষ করে সময় হয়েছে প্রমোদসফরের। বছরের এই একটা সময়ের জন্য আমার জীবনটা সম্পূর্ন রুপে পরম সুখময় হয়ে উঠে। তবে এইবারের যাত্রা অন্যবারের থেকে একটু ভিন্ন।  ওমরার নিয়ত করেছিলাম গত বছর। বাবা মা কয়েকবার হজ্জ করে ফেললেও আমি করতে পারিনি। মনে মনে খুব ইচ্ছে হত একবার যাবার। মহান আল্লাহ যে আমার উপর এত দ্রুত আশীর্বাদ করবেন তা ভাবিনি।আল্লাহ যেন আমার ওমরা কবুল করেন এবং সকলের জন্য যেন আমি খুব দোয়া চাইতে পারি… এই কামনা মনে প্রানে। বিশ্বাস করুন, কোন দিনও মানুষের দুই পয়সারও ক্ষতি করিনি কিন্তু কিছু কিছু মানুষ নানা ভাবে আমাদের অসন্মান করেছে। আমি সব সময় বিচার আল্লাহ’র উপর ছেড়ে দিয়েছি। তিনি তো দেখছেন। তিনি ভাল জানেন কার কি প্রাপ্য! আমার প্রাপ্যটাও আমি যথাসময়ে পেয়ে যাচ্ছি বলে বিশ্বাস।

আমি এমন তিন দেশে যাচ্ছি যেখানে অবকাশ যাপনের সুজোগ এর আগে আমার কখনও হয়ে উঠেনি। তিনটি দেশই আমার জন্য নতুন এবং একটি দেশে যাওয়া নিতান্তই আমার কর্তব্য বলে মনে করি। আগামী ২২শে মার্চ হতে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত আমি দেশের বাহিরে থাকব। সাময়িক বিরতি ইন্টারনেট এর জগৎ থেকে। শুধু তাই না, এই তিন সপ্তাহ আমি পুরোপুরি ভাবনামুক্ত থাকতে চাই। জীবনের সকল দুশ্চিন্তা এবং সংগ্রাম থেকে নিজেকে অনেক দূরে সরিয়ে একটি চমৎকার ছুটি কাটাতে চাই। আমি যেন সম্পূর্ন সুস্থ্য এবং সকলের সুখ প্রার্থনা করে আসতে পারি সেই দোয়া চেয়ে বিদায় নিচ্ছি। যদি বেঁচে থাকি আবারো দেখা হবে এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে, এক নূতন বছরের অভিনব দিনে।

সবাই ভাল থাকুন, আল্লাহ কে স্মরণ করুন।

Posts navigation

← Older Entries
Newer Entries →
  • আমার সাথে কথা বলতে চাইলে টুইট!

    • Lunching with a new friend 🍲🍜! Hes too worried abt my comfort! Fahim, relax.. I wont complain as long as their a/c is working heh heh 🍱 1 hour ago
    • Someone is looking good today  (@ RollXpress) 4sq.com/JEym29 1 hour ago
    • I just ousted Shan as the mayor of RollXpress on @foursquare! 4sq.com/hHbU5v 1 hour ago
    • Look at the road lol instagr.am/p/LH4hSVu2z7/ 2 hours ago
    • Dear heart .. Treat me well as i take an excellent care of u!! ❤ instagr.am/p/LHkyPOO29r/ 5 hours ago
    • Morning ❤ 6 hours ago
  • ব্লগিং এ ১ বছর!

    Photobucket

    ২০১১ সালের মে মাসে আমি শুরু করেছিলাম আমার এই ব্লগ। বহুবার ব্লগ খোলার পরেও আমি নানা বিভ্রান্তির কারনে তা বাতিল করেছি। অবশেষে অনেক চিন্তা ভাবনার মধ্য দিয়ে যেয়ে আমি লক্ষ্য করলাম আমার এই ব্লগ ১ বছর পার করে যাচ্ছে ২০১২ সালের মে মাসে! বাংলা ব্লগ আমি ২০১০ সালে শুরু করলেও আমার এই প্রথম টানা এক বছর বাংলায় লেখা! আর যেহেতু আমি অনেক সহাসমারোহের সাথে এক বছর পার করছি তার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার ব্লগ এ গত এক বছর বেশ কিছু সদস্য ছিলেন এবং আছেন যারা প্রতিনিয়ত আমার লেখার মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া চিন্তাভঙ্গিকে খুব মর্যাদার সাথে গ্রহন করেছেন। তাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ কারন তাঁরা নিজেদের অতিমূল্যবান সময় কিছুটা হলেও আমার ব্লগে দিয়েছেন। কারন পৃথিবীতে সব চেয়ে বড় সন্মান সেখানেই আমি খুঁজে পাই যখন মানুষ আমাকে শত ব্যাস্ততার মধ্যেও স্মরণ করে!

  • Please do NOT SMOKE :)

    Photobucket

    Please refrain youself from smoking while going through my blog posts. I know I am not asking too much from you as a blogger friend. আপনি যে সময়টুকু আমার ব্লগ এ ব্যায় করবেন সেই সময়টুকু দয়া করে নিজেকে ধূমপান থেকে বিরত রাখুন। আমি জানি আমি আপনার কাছে খুব বেশি কিছু আশা করছিনা কিন্তু আপনারই শরীর এবং হৃদ্‌যন্ত্র কে ধূমপানের মত বিষাক্ত আসক্তি থেকে সাময়িক বিশ্রাম দেবার জন্য অনুরোধ করছি মাত্র।

  • Lover of Shoes!

    একটি মানুষের রুচিত প্রকাশ পায় তার পায়ের পাদুকাতে। যদিও বেশির ভাগ মানুষ জুতোর ব্যাপারে ভয়ঙ্কর রকমের উদাসীন তবে আমি তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে চাই! আসুন, সুন্দর সুন্দর জুতো পরি এবং নিজেকে চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করি :)

  • ভাবনাগুলো…

    • সূচনায় শ্বাসরুদ্ধ …
    • যখন ছিলে পাশে…
    • প্রকৃতির রক্তিম অভ্যর্থনা!
    • আমার স্বাস্থ্যের কাব্যচর্চা…
    • আমার অলৌকিক পাঠকক্ষ …
    • আমার ৭৩১ দিন…
    • আমার উদ্দেশ্যবিহীন বন্ধুত্ব…
    • ১ বছর…
    • খুঁজি আমি কাহারে…
    • আমার পাঁচমিশালি অন্যমনস্কতা!
  • Unforgettable – Coming soon !

    Photobucket

    Unforgettable, প্রেমের গল্পের উপর নির্মিত ইকবাল খানের সাম্প্রতিক চলচিত্র যা খুব দ্রুত আসবে সিনেমা হলগুলোতে। এই চলচিত্র সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট এবং সকল তথ্য জানার জন্য উপরের ছবিটিতে ক্লিক করুন। আমার ব্লগ এর বাঙ্গালী পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এই ছোট্ট প্রয়াস।

  • My PhotoStream on Flickr!

    Photobucket

    Nikon D3000 তোলা আমার কিছু ছবি আপলোড করছি Flickr এ। সময় করে একবার দেখে আসতে পারেন আমার photostream!

  • নিজেকে ভালবাসতে শিখুন।

    Photobucket

    Try not to take dinner and watch the television program at the same time. This action would have tendency of overeating as the attention is on TV program and it is difficult to feel the feeling of satiated.

  • I am on Tumblr

    Click on the image to check my Tumblr for some pictures, scrap cards, quotes and other beautiful notes on life.

    Photobucket

  • Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

    Join 72 other followers

  • I am on Instagram :)

    Photobucket

    আপনার যদি Instagram এ কোন একাউন্ট থেকে তাহলে আমার iphone 4s এর তোলা বেশ কিছু ছবি এবং নিত্যদিনের কিছু আলোকচিত্রের সংগ্রহ দেখতে পারেন। আমার একাউন্ট - rotteneggs

  • Like !

  • অতীতের কিছু লেখা…

    • মে 2012
    • এপ্রিল 2012
    • মার্চ 2012
    • ফেব্রুয়ারি 2012
    • জানুয়ারি 2012
    • ডিসেম্বর 2011
    • নভেম্বর 2011
    • অক্টোবর 2011
    • অগাষ্ট 2011
    • মে 2011
  • আপনাদের ভালবাসা...

    gc1963 on সূচনায় শ্বাসরুদ্ধ …
    নিঃশব্দতার ছন্দ on সূচনায় শ্বাসরুদ্ধ …
    নিঃশব্দতার ছন্দ on যখন ছিলে পাশে…
    sinadim on সূচনায় শ্বাসরুদ্ধ …
    papon chowdhury on যখন ছিলে পাশে…
  •  

    মে 2012
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
    « এপ্রি    
     123456
    78910111213
    14151617181920
    21222324252627
    28293031  
  • I am on Facebook

    Click on the image to view my page on facebook.

    Photobucket

  • আমার লেখার বিষয়গুলো

    • অবসরে রসগোল্লা…
    • অসমাপ্ত গল্প
    • আমার একবেলা ছুটি
    • আমার গোলপাতার ঘর ঢাকার গলিতে
    • আমার মত কেও…
    • কাঁচের বাক্সে ঘড়ির কাঁটা
    • কাছের মানুষেরা…
    • গানের গুনগুনানি
    • জীবন যখন তেজপাতা
    • জীবনে যেমনটি হয়
    • জ্যোৎস্নাক্রান্ত ভাললাগা
    • ঝরে না বর্ষায়…অনন্তকালের বেদনা
    • টক ঝাল মিষ্টি
    • নিয়মনীতির উদারনীতি
    • পর্দার আড়ালে প্রিয় চরিত্র
    • পূর্নচন্দ্র মধ্যগগনে
    • প্রবাসে সুখলতা
    • শীতের শুকনো পাতায় মর্মরধ্বনি
    • শৈশবের খেলনা
    • সাগরের পারে বনভোজন
    • সানাই এর সুরে বন্ধন
    • সে এক বিস্ময়!
    • সেই রাজোচিত পাঠশালা
    • স্বাস্থ্যের আনন্দ-ঘুড়ি উড়ছে
  • Sucker of Bags :)

    Photobucket

    শপিং সেন্টারগুলোতে গেলে সব চেয়ে লম্বা সময় আমি কোথাই কাটাই? অবশ্যই হাতব্যাগ, ক্লাচ এবং বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগের দোকানে। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি একটি মেয়েকে সব চেয়ে সুন্দর দেখায় যদি তার পায়ে সুন্দর এক জোড়া পাদুকা এবং ম্যাচিং ব্যাগ হাতে থাকে। গহনা বা অতিরিক্ত সাজ মেয়েদের রমণীয় করে তোলে না, তাদের চমৎকার করে তোলে পোষাক, জুতো এবং ব্যাগ।

Blog at WordPress.com. Theme: Parament by Automattic.